ফরিদপুরে চিকিৎসক ও সেবিকার অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

|

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকার অবহেলায় আব্দুর রহমান নামে ১১ মাস বয়সের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেছে তার পরিবার ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্য রোগীর স্বজনেরা।

জানাগেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার গোপালগঞ্জ গ্রামে তৈয়বুর রহমানের ছেলেকে নিয়ে তার মা ফাহিমা বেগম, চাচা অহিদুলসহ স্বজনেরা ডায়রিয়া জনিত রোগে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

সেসময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিয়া সুলতানা আব্দুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশের সাথে চিকিৎসাপত্র দিয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পাঠান। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

চাচা অহিদুল অভিযোগ করে বলেন, ২২ মে সকালে জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়। এরপর ২৩ মে ফরিদপুরে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে আনা হলে সেখান থেকে জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে চিকিৎসক ভর্তির নির্দেশ দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠালে সেখানে কর্তব্যরত নার্স গোলাপী বেগম চিকিৎসা পত্র দেখে বাইরে থেকে ঔষধ কিনে আনতে বলেন।

এরপর ঔষধ নিয়ে আসলে এক ঘন্টারও বেশি সময় ডাকাডাকি করেও ওই সেবিকাকে দিয়ে ঔধধের কোন প্রয়োগ করানো সম্ভব হয়নি। যতবার ডেকেছি বলেছে আসছি আপনি যান আর আসেনি। এভাবে এক রকমের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় আমার ভাতিজার। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

শিশুটির স্বজনেরা জানান, রোগীর অবস্থা যখন আমাদের কাছে খারাপ মনে হচ্ছিল আমরা দেখছিলাম আগের তুলনায় ওর বেশি শ্বাস কষ্ট হচ্ছে তখন পুরো হাসপাতাল ঘুরে অনেক হাতেপায়ে ধরেও একজন চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।

একপর্যায়ে সেবিকা জানান চিকিৎসকরা নামাজে গেছেন। তারপর নামাজের সময় অতিক্রম হয়ে গেলেও চিকিৎসকরা না আসায় আবারো সেবিকাদের কাছে গেলে বলেন স্যাররা এখন বাড়ি চলে গেছেন। এখন আর কেউ আসবেন না। এমন পরিস্থিতিতে সেবিকার সাথে আমাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

তখন ওই গোলাপী বেগম চিকিৎসকের সাথে ফোনে কথা বলে জানান, স্যার বলছে ঢাকায় রেফার করতে । এরই মধ্যে শিশুটির অবস্থা আরও অবনতি হলে সেবিকারা তাকে অক্সিজেন দেন তার ৫ মিনিটের মধ্যেই আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক গণেশ আগরওয়াল বলেন, দুপুর দেড়টায় নামাজ ও দুইটায় শিফট পরিবর্তনের কারণে ওই সময়ের মধ্যে কিছুটা চিকিৎসক সংকট থাকে। তবে এই রোগীর চিকিৎসা পত্র লিখে দিয়েই চিকিৎসক গিয়েছিলেন। কিন্তু সেবিকা গোলাপীর গাফলতির মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই করে দেখছি। অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. এনামুল হক জানান, বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কোনও রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে।









Leave a reply