মাদারীপুরের সেন্দিয়া গণহত্যা দিবস আজ

|

আজ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সেন্দিয়া গণহত্যা দিবস। একাত্তর সালের এই দিনে রাজৈরের খালিয়া ইউনিয়নের সেন্দিয়া সহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক মুক্তিকামী মানুষ পাক হানাদার বাহিনীর নৃশংসতায় প্রাণ হারায়। স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও এই গণহত্যা দিবস পালন বা স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারীভাবে কোন উদ্যোগ আজো গ্রহণ করা হয়নি। ফলে শহীদ পরিবারের সদস্য,স্বজন ও স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ,অসন্তোষ ও স্বজনহারা ব্যথা বুকে নিয়ে এখনও ধুঁকে ধুঁকে মরছে।

সরেজমিন ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে পাকসেনারা মাদারীপুরের টেকেরহাট বন্দরে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করে শুরু করে পৈশাচিকতা। পাকবাহিনী লঞ্চ যোগে গোপালগঞ্জ জেলার ভেন্নাবাড়ী ঘাটে নেমে চরচামটা নামক এলাকা থেকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ ও অগ্নি সংযোগ শুরু করে। সেখান থেকে পাকবাহিনী তাদের দোসরদের সহযোগিতায় নৌপথে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর হয়ে রাজৈরের কদমবাড়ী এলাকায় গান বোট থেকে নেমে সড়ক পথে বাড়ী-ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। এছাড়াও পাকবাহিনীর দোসররা আখক্ষেত এবং ঝোপ জঙ্গলে তল্লাসী চালিয়ে মাটির গর্তের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ও ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে ৬টি স্থানে দেড় শতাধিক পলায়নরত মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। পাকবাহিনীর গুলিতে আহদের অনেকেই এখনও ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এরপর কেটে গেছে ৪৮টি বছর।

গণসমাধিগুলো সংরক্ষণ বা শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। নতুন প্রজম্ম পাক বাহিনী ও তাদের দোসররদের এই নারকীয় ঘটনার স্মৃতি ভুলতে বসেছে। অজানা রয়ে গেছে মুক্তিকামী মানুষের মহান আত্মত্যাগের কাহিনী। দীর্ঘ ৪৮ বছরেও গণসমাধিগুলো চিহ্নিত করে কোন স্মৃতি সৌধ নির্মাণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। কোন সরকারই স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মৃতি সৌধ নির্মাণ না করায় এলাকার মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

অনতিবিলম্বে রাজৈরের ৬টি স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য এবং গনহত্যা দিবসটি সরকারীভাবে পালনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।









Leave a reply