মুক্তিযোদ্ধা বাবার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা ঢাবি ছাত্রের

|

২০১০ সালে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত বর্তমানে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে জীবনযাপন করছেন ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মর্তুজা ভূঞাঁ। তারপর থেকে স্বাভাবিক জীবন বলতে কিছু যে আছে তা যেন হারিয়েই গেছে তার পরিবারের জীবন থেকে।

চিকিৎসার জন্য নিজের গড়া ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে আজ প্রায় নিঃস্ব এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু বর্তমানে এই পরিমাণ অর্থ কোনভাবেই ব্যয় করা সম্ভব নয় তার পরিবারের পক্ষে।

তাই এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর সাহায্যের আবেদন করে তার পুত্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টর শিক্ষার্থী নাজমুল ফারাবী। সাহায্য চেয়ে তিনি তার নিজের ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়ে।

তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো…

#মাননীয়_প্রধানমন্ত্রীর_নিকট_খোলা_চিঠি

প্রিয় হাসু আপা আপনি খুব ভালো করেই জানেন এক জীবনের কত রং থাকতে পারে,সেই ক্ষনে ক্ষনে রং বদলানো জীবনে হৃদয়ের ভিতর থেকে সবসময় হারানোর ভয় প্রতিনিয়ত বয়ে বেড়াচ্ছি।

আমি মোঃ নাজমুল হোসেন। আমার বাবা মোঃ মর্তুজা ভূঁইয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের পরিবারের আমার বাবা এবং আমার ছোট চাচা ফজল করিম ভূইয়া দুইজন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ থেকে আমার বাবা মর্তুজা ভূঁইয়া ফেনী সরকারি কলেজ থেকে নির্বাচিত জিএস ছিলেন।নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৯৬৯ এর আইয়ুব খান বিরোধী গনঅভ্যুত্থানের। ফেনী জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের থানা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ ২৬টি বছর। বঙ্গবন্ধুর আর্দশের এই সৈনিক কখনও মাথা নত করেননি কোনো অন্যায়ের কাছে।যুদ্ধের সময় আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলো রাজাকারেরা এবং আমার দাদার উপর নির্যাতন করা হয়ছে শুধু তাঁর ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার কারণে।

১৯৮০ সাল নাগাদ রাজাকারেরা আমার ছোট চাচাকে এসিড নিক্ষেপ করে, এতে তাঁর দুচোখ অন্ধ হয়ে যায়,শেষজীবনে এই বীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেন। জীবনের রং বদলায় এক জীবনে অনেকবার,তেমনি আমার পরিবারের দুঃখের রং যেন শেষেই হয় না।২০১০ সালে আমার বাবা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন,তাঁর এতদিনের এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে আমাদের সকল জমিজমা বিক্রয় করি।

কিন্তু ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাস, আমাদের বসতভিটার পাশে যে এক মাত্র জমিটুকু ছিলো তাও এক জামায়াতের নেতা অবৈধভাব দখল করে আছে। আমরা প্রশাসন নিকট গেলেও কোনো প্রতিকার পাইনি, কোনো এক অদৃশ্যের শক্তিরবলে।

হঠাৎ গত ২২শে মার্চ আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর পাকস্থলীতে জরুরি অস্ত্রোপচার (subtotal colectomy) করেন,এতে তাঁর পাকস্থলীর ৩০-৪০% কর্তন করে ফেলে দেওয়া হয় এবং বিকল্প পায়ুপথ করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর আরেকটি অপারেশন করা লাগবে। এরই মধ্যে আমার পরিবার আত্মীয় স্বজনদের কাছে বিপুল টাকায় ঋনে জর্জরিত। আমাদের কাছে কোনো অবশিষ্ট সম্পত্তি নেই বাবার জন্য ব্যয় করব। তাঁর এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ভারবহন করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। যেখানে বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাই একমাত্র সম্বল, সেখানে জানিনা কি করব,এখন আমার কি করা উচিত,সবকিছুই যেন ঝাপসা মনে হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইটুকুই চাওয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনের শেষ অপরাহ্নে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য আকুল আবেদন।

যোগাযোগঃ ০১৬৭৪-৫৫৫৬৯১









Leave a reply