পাকা ধানক্ষেতে আগুন ধরিয়ে অসহায় কৃষকের প্রতিবাদ

|

শামীম আল মামুন, টাংগাইল

টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও শ্রমিক সংকটে ধান না কেটে ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন এক অসহায় কৃষক।

রোববার দুপুরে জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদার তার ৫৬ শতাংশ জমিতে রোপনকৃত পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে এ প্রতিবাদ করেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদরসহ ১২টি উপজেলায় এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এবছর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।

এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকী ৭০ শতাংশ কিন্তু ধান পেকে গেলেও কৃষক দিনমজুরের অভাবে ঘরে তুলতে পারছে না। দিনপ্রতি একজন দিনমজুরকে দিতে হয় ৯শ থেকে ১০০০ হাজার টাকা। আর বর্তমান বাজারে ধানের মূল্যে ৫০০ টাকা মন। এতে প্রায় দুই মন ধান বিক্রি করে কৃষক একজন দিনমজুরকে (কামলা) মজুরী দিতে হচ্ছে। আবার অধিক মজুরী দিয়েও দিনমজুর পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে জমিতে পাকা ধান জমিতে পড়েই নষ্ট হচ্ছে।

কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার বলেন, সরকার মনপ্রতি ধান ৫শ টাকা করে ধরেছে। ধান কাটতে দিনমজুরকে দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকা মনপ্রতি। এরপরও ধান ঘরে তুলতে আরো খরচ। অন্যদিকে বেশি মজুরী হলেও কামলা পাওয়া যায় না। খেতে ধান পাকলেও তা ঘরে তুলতে পারছিনা। তাই এক দাগের ৫৬ শতাংশ ধানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছি।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই সময়ে ধানের বাজার কিছুটা কম থাকলেও কৃষক যদি ধান সংরক্ষণ করে রাখে তবে ক’দিন পরেই অধিক মূল্য পাবে। তাপাদহসহ নানা কারনে কিছুটা শ্রমিক সংকট থাকলেও তা তীব্র নয়। তিনি আরো জেলায় গত বছরের তুলনায় এবার ব্যাপক পরিমান বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৭০২ হেক্টরের ধানের প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply