নুসরাত রাফি হত্যাকাণ্ডের একমাস: বিচারের অপেক্ষায় স্বজনরা

|

মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, ফেনী থেকে:

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের আজ একমাস পূর্ণ হলো। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে নুসরাত জাহান রাফি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। নুসরাতকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যার ঘটনা সারা দেশে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। নিহতের বড় ভাই মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেছেন। তিনি বলেন, নুসরাতকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দেশে-বিদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। আশা করছি দায়িদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার- বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে। যাতে আর কোন নুসরাতকে এভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে না হয়। একই দাবি করেছেন নিহত নুসরাতের পিতা মাওলানা মুছা, মাতা শিরিন আক্তার ও ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত এ মামলায় এ পর্যন্ত এজহারভুক্ত ৮ আসামিসহ ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে ওই অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ওই মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন রয়েছেন।

এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২ জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল।

চলতি মাসেই অভিযোগপত্র দাখিল

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নুসরাত খুনের ঘটনাটি দ্রুত উদ্‌ঘাটিত হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। সব আসামির জবানবন্দি নেওয়ার কাজ শেষ হলে অভিযোগপত্র তৈরির কাজে হাত দেওয়া হবে। তবে চলতি মাসের মধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।









Leave a reply