আসিয়ানের বিবৃতিতে নেই রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ!

|

আসিয়ান সম্মেলন শেষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো কথা বলেনি সংস্থাটি। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬ লাখ শরণার্থীর বিষয়ে কোনো কথা না থাকলেও রাখাইনে ‘ক্ষতিগ্রস্ত কম্যুনিটির সদস্যদের’ জন্য মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ‘ক্ষতিগ্রস্ত কম্যুনিটি’ বলতে রোহিঙ্গা ছাড়া রাখাইনের বাকি জনগোষ্ঠিকে বুঝানো হয়েছে, যারা বর্তমানে ওই অঞ্চলে বাস করছেন।

অবশ্য দিন শেষে এক ব্রিফিংয়ে স্বাগতিক দেশ ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হ্যারি রক বলেছেন, আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো কথা না থাকলেও সম্মলনে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাতে মিয়ানমার নেত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের সাথে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

হ্যারি রক বলেন, আমি নিশ্চিত করছি, শীর্ষ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দু’টি সদস্য দেশ বিষয়টি উত্থাপন করে এবং মিয়ানমার সুনির্দিষ্টভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে। মিয়ানমার জানিয়েছে, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশের সাথে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।

সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে দু’দেশের মধ্যে বিস্তর মতপার্থক্য গুচিয়ে কবে নাগাদ সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে তা স্পষ্ট নয়।

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো প্রভাবশালী মুসলিম সদস্য থাকলেও এবারের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নেই রোহিঙ্গা ইস্যু। তবে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ঠিকই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে।

এদিকে মূল সম্মেলন শুরুর আগে আসিয়ান নেতাদের সাথে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেন সহায়তার প্রতিশ্রুতি।

ট্রাম্প বলেন, কৌশলগত স্বার্থেই আসিয়ানের সাথে সব সময় বন্ধুত্বপূর্ন ও অংশীদারিত্বের সম্পর্ক চায় যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এক সাথে করবো। আমরা চাই এ অঞ্চলে আমাদের অংশীদাররা শক্তিশালী, স্বাধীন সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচালিত হোক। মুক্ত ও স্বাধীন ইন্দো-প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চল গঠন আমাদের লক্ষ্য।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় জোটের ৩১তম শীর্ষ সম্মেলনে ১০ সদস্যের বাইরেও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কানাডা, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্মেলনে আসিয়ানের ৫ দশকের সাফল্য তুলে ধরেন জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। আহবান জানান, আলোচনা, ঐক্য এবং সহযোগিতার মাধ্যমে সব হুমকি মোকাবেলার।

তিনি বলেন, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করছে এই জোট। আঞ্চলিক বির্তকিত বিভিন্ন ইস্যু এবং সংকট সমাধানের উপযুক্ত মঞ্চ এটি। গেল ৫০ বছরের সাফল্য প্রমাণ করে জোট হিসেবে আসিয়ানের কার্যকারিতা।

সম্মেলনকেন্দ্রে আতিথেয়তার কমতি না থাকলেও বাইরের পরিবেশ ছিল ভিন্ন। ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভে দিনভর উত্তাল ছিল ম্যানিলা। সফরের প্রতিবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষুব্ধরা।









Leave a reply