আজ মহান মে দিবস

|

আজ মে দিবস। এ বছর বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে- ‘শ্রমিক মালিক ভাই ভাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই।’ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকারিভাবে দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মে দিবসের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সেমিনার।

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জানান, নারী-পুরুষের শ্রমমূল্যে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। আমাদের দেশের চাকরিদাতারা সব সময় চায় কত কম মজুরি দিয়ে শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানো যায়। সমাজের দুর্বল অংশ নারীকে তারা বেশি বঞ্চিত করার সুযোগ পায়।

নারী শ্রমিকের নিচে আর কোনো সস্তা শ্রমিক পাওয়া যায় না। এমন বৈষম্য রুখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে জানিয়ে সেলিম আরও বলেন, শ্রমজীবী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে গৃহশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তাদের অনেকে কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। পাঁচ থেকে ১৭ বছরের বেশি গৃহশ্রমিক নামমাত্র বেতন এবং দুই বেলা খাবারের বিনিময়ে প্রায় ২০-২১ ঘণ্টা শ্রম দিয়ে যাচ্ছে।

তাদের কোনো নিয়োগপত্র নেই, নেই কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা। তারা সাপ্তাহিক ছুটিও পায় না। শিক্ষার অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত।

বিলস সূত্র জানায়, ২০১৫-২০১৬ সালে ১৯০ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছে গৃহকর্মীদের ৭০ শতাংশের বেশি শিশু। বিদেশে যেসব বাঙালি নারী শ্রমিক গৃহশ্রমে কাজ করে, সেখানেও তাদের প্রতারণা ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেকে শারীরিক অত্যাচার, নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে দেশে ফিরে আসছেন।

তৈরি পোশাক শিল্প খাতে চীনের পর বাংলাদেশের অবস্থান। এ খাতে আনুমানিক চার কোটি শ্রমিক কাজ করেন। তাদের বেশির ভাগই নারী শ্রমিক। বাংলাদেশে রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে তৈরি পোশাক শিল্প। এখানে মজুরিবৈষম্য ব্যাপক।

রাজধানীতে নারী নির্মাণ শ্রমিকের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু বৈষম্য কমছে না। কর্মক্ষেত্রে প্রায় সব স্তরেই নারী তীব্র মজুরিবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কৃষি খাতে নারীর সবচেয়ে বেশি অবদান থাকলেও স্বীকৃতি দেয়া হয় না। কৃষিকাজের ২১টি ধাপের মধ্যে নারীরা ১৭টি ধাপের কাজ করেন। এরপরও নারী কৃষক বা কৃষান হতে পারেননি।

কৃষি খাতের ৪৫ দশমিক ছয় শতাংশ কাজই নারীরা বিনামূল্যে করেন। কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ। বর্তমানে কৃষি খাতে পুরুষের অংশগ্রহণ কমেছে সাড়ে তিন শতাংশ। এ

রপরও কৃষিতে নারীর কাজের স্বীকৃতি নেই। ২০১১ সালের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিতে নারীর মজুরিবৈষম্য দূর করতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সালের জাতীয় কৃষি নীতিতেও ‘কৃষিতে নারী’ নামে একটি ধারা যুক্ত করা হয়।

এতে কৃষি উপকরণ, কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড, সার, বীজ, ঋণ সুবিধাসহ নারী-পুরুষের সমান সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কৃষিতে নারীর স্বীকৃতি আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম জানান, কৃষিতে নারীর শ্রমের মূল্য একেবারেই মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি, কৃষিতে নিয়োজিত নারীর যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেয়া হোক। জমিতে বীজ বপন করা থেকে শুরু করে বাজারে শস্য বিক্রি করা পর্যন্ত নারীরা শ্রম দিয়ে আসছেন।

কৃষিতে নারীর শ্রমের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দিয়ে তা জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সবক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। ন্যায্য মজুরি দেয়া হয় না।

গৃহশ্রমের স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ২৩নং ধারায় উল্লেখ আছে- কোনোরূপ বৈষম্য ছাড়া সব কাজের জন্য সমান বেতন পাওয়ার অধিকার আছে প্রত্যেকের। নারীরা কাজও করেন, রোজগারও করেন। তবু তারা অদৃশ্য, তাদের কোনো স্বীকৃতি নেই।









Leave a reply