শরীয়তপুরে নির্মাণাধীন মাদ্রাসা ভবনের কলাম ধ্বস

|

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার কাগদী দাখিল মাদ্রাসার নির্মাণাধীন চার তলা ভবনের কলাম ভেঙে পড়েছে। ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। অভিযোগ পেয়ে রোববার ভবনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে আসেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, শরীয়তপুরের সদর উপজেলার পৌরসভার কাগদী দাখিল মাদ্রাসার নতুন চার তলা ভবনের নির্মাণ কাজের টেন্ডার আহবান করা হয় ২০১৮ সালে ৫ আগস্ট। কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এনবি কনস্ট্রাকশন। চার তলা ভবনটির এক তলা নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৭০ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়।

৩২২ বর্গমিটারের ভবনটিতে ২৯ টি পিলার রয়েছে। যার মধ্যে ১৩টি কলাম নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি কলাম বেইজ থেকে ভেঙে পড়ে। এতে কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ভবনের ভেঙে পড়া কলামটি দেখে মাদ্রাসা সুপারকে অবহিত করেন। সুপার বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপজেলা উপ সহকারি প্রকৌশলীকে জানান। পরে তিনি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

কাগদী গ্রামের বাসিন্দা স্বাধীন জানান, শুরু থেকেই ঠিকারদার কাজে অনিয়ম করে আসছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবনের নির্মাণ কাজ করায় বারবার তারা বাধা দিয়েছেন কিন্তু তাদের কথা সংশ্লিষ্ট কেউই শোনেননি।

মাদ্রাসা সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, শত শত শিক্ষার্থী এই ভবনে পড়াশুনা করবে। পিলার ভেঙে পড়ায় আমরা চিন্তিত। আমাদের দাবি ভবনটি যাতে নিয়ম মাফিক নির্মাণ কাজ করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সৈয়দ আদনান জেসি জানান, নির্মাণ কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। সিডিউল অনুযায়ী ভবনের নির্মাণ কাজ হচ্ছে। কলাম ভাঙেনি, হেলে পড়েছে। পাশের মাটি ভেঙে পিলারের ওপর পরায় এমনটা হয়েছে।

শিক্ষা অধিদফতরের সদর উপজেলা উপ সহাকারি প্রকৌশলী এটিএম জাহিদ জানান, কাজটি তদারকির জন্য স্থানীয়দের নিয়ে একটি কমিটি গঠন কারা হয়েছে। মাটি ধ্বসের কারণে কলামটি ভেঙে যেতে পারে। নির্মাণ সামগ্রীর নমুনা নেয়া হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে এর মান যাচাই করা হবে।

পরিদর্শনে আসা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, সাময়িকভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে জানানো হবে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।









Leave a reply