চাটমোহরে শুরু ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা

|

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার চাটমোহরে বড়াল নদের তীরে বোঁথর গ্রামে শুরু হয়েছে হাজার বছরের ঐহিত্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা। শনিবার থেকে শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী এই মেলা শেষ হবে আগামী সোমবার (১৫ এপ্রিল)। হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে হাজার বছর ধরে চলে আসা এই চড়ক মেলা এখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথমদিনেই ঢল নেমেছে ভক্ত-পূন্যার্থীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত ৭ এপ্রিল পাট ঠাকুরের পাটে ধুপ দেয়া এবং ১২ এপ্রিল মন্দিরে মহাদেব এর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় চড়ক পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শনিবার দুপুর ১২টায় চড়ক গাছ দিঘীর পানি থেকে তোলা হয়। প্রায় ১৩ হাত দৈর্ঘ্যরে শালগাছটি চড়ক গাছ নামে পরিচিত। এরপর মনোবাসনা পূরণের আশায় সেই গাছে তেল, দুধ, চিনি, মাখন ঢালেন ভক্ত অনুসারীরা। এছাড়া আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে ছিল ভরন চালান, কালী নাচ, পাঠাবলি, ফুল ভাঙ্গা, হাজরা ছাড়া সহ আনুসাঙ্গিক পূজা অর্চনা।

পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এপার বাংলা নয়, ওপার বাংলা থেকে এসেছেন পুণ্যার্থীরা। মেলা প্রাঙ্গনে বসেছে নাগরদোলা। নানা ধরেেণর পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা।

চড়ক পূজার উৎপত্তি সম্পর্কে বোঁথড় গ্রামের বাসিন্দা ও চড়ক পূজার পুরোহিত সৌমেন চক্রবর্তী ওরফে ভুতে ঠাকুর বলেন, শুনেছি বান রাজার আমল থেকে (৭০০ বছর আগে) এখানে চড়কমেলা চলছে। প্রথম চড়কগাছ প্রতিস্থাপন করেছিলেন মাখন স্যানাল নামের এক কাঠ ব্যবসায়ী। আসাম থেকে কিনে আনা তার কাঠের মধ্যে চড়ক গাছের আগমন ঘটেছিল। আর মাখনের স্ত্রীকে স্বপ্নের মাধ্যমে দেবতা মহাদেব জানিয়ে দেন, চড়ক হয়ে তিনি এখানে এসেছেন। তাকে স্থাপন করে যেন পূজা দেয়া হয়। সেই থেকে স্যানাল ও আচার্য পরিবার পূজা শুরু করেন হলদার ও সুত্রধরর পরিবার সাথে নিয়ে। বোঁথড় চড়ক পূজা ও মেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর সাহা জানান, কমিটির পক্ষ থেকে পূজায় আসা ভক্ত-পুন্যার্থীদের জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সবাই যাতে নিরাপদে পূজার কাজ করতে পারেন সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছে। ওপার বাংলা থেকেও অনেক ভক্ত আসছেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পূজা ও মেলা চলছে। আশা করি সবার সহযোগিতায় শান্তিপুর্নভাবে পূজা ও মেলা চলবে।চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্নভাবে পূজা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আনসার সদস্যের পাশাপাশি থানার সকল পুলিশ অফিসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। পুরো মন্দির প্রাঙ্গন রয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়।

এদিকে শনিবার বিকেল ৫টায় বোঁথর মহাদেব মন্দির প্রাঙ্গনে নব নির্মিত শ্রী শ্রী হরিমন্দির ও নাট মন্দিরের শুভ উদ্বোধন করেন ভারতীয় দূতাবাসের (রাজশাহী) সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জিব কুমার ভাট্টি। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ দাসের সভাপতিত্বে ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ মাস্টার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার, পৌর মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, সহকারী পুলিশ সুপার ফজল-ই খুদা পলাশ, থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি রকিবুর রহমান টুকুন প্রমুখ।









Leave a reply