দীর্ঘদিনের চেনা তাই প্রকাশ্যে যৌন হয়রানি!

|

ম্রো সম্প্রদায়ের একজন বিধবা নারীকে প্রকাশ্যে হয়রানি করে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন বান্দরবানের আলীকদমের নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম। ২২ মার্চ স্থানীয় নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মেরিনচর পাড়ায় সংবর্ধনা নিতে গিয়ে এ কাণ্ড ঘটান তিনি। পাড়াটিতে ম্রো সম্প্রদায়ের বসবাস। আবুল কালামের দাবি, পরিবারটির সাথে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। প্রশ্ন হলো, তাতে কি ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনো নারীকে জড়িয়ে ধরাটা জায়েজ হয়ে যায়?

কোনো সন্দেহ নেই, ছবি অনেক সময়ই খণ্ডিত বার্তা দেয়। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া আবুল কালামের জড়িয়ে ধরার ছবিতে ম্রো নারীটির অনীহা ও অস্বস্তি স্পষ্ট। চেয়ারম্যানের হাত থেকে ছুটে যেতে চেষ্টা করছেন তিনি সেটি বুঝতেও খুব বেশি বেগ পেতে হয় না।

যমুনা টেলিভিশনের বান্দরবান প্রতিনিধি নারীটির পরিচয় নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তিনি একজন বিধবা। তার ভাই স্থানীয় ম্রো ন্যাশনালিস্ট পার্টি কমান্ডারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে চেয়ারম্যান আবুল কালাম ওই পাড়ায় সংবর্ধনা নিতে যান।

ম্রো ন্যাশনালিস্ট পার্টির কমান্ডারের সাথে আবুল কালামের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। তবে, এটিকে সরল সম্পর্ক হিসেবেই ধরে নেয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় সূ্ত্রে জানা গেছে, এখানে স্বার্থ ও সংঘাতের সমীকরণ প্রবলভাবেই কাজ করছে। কাজ করছে ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ আবুল কালামের স্বেচ্ছাচারীতাও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোপের মুখে পড়ে পরবর্তীতে সেই ম্রো নারীর পরিবারের সাথে আরও কিছু ছবি শেয়ার করেন আবুল কালাম। যেখানে হয়রানির শিকার নারীটিকে পাশে বসিয়ে ভাত খাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেই ছবিগুলোতেও নারীটিকে সপ্রতিভ দেখা যায়নি। বরং আবুল কালামের লালসা চরিতার্থ করার সুখই আলোচিত হচ্ছে নেটিজেনদের মধ্যে।

আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়। আবুল কালামের এহেন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গিয়ে অনেক মানুষ তার মা, স্ত্রী ও বোনকে গালাগাল দিচ্ছেন। সেটিকে যুক্তি সঙ্গত বলার উপায় আছে কি? বরং সেই গালাগালে প্রকাশ পাচ্ছে, একজন পুরুষের বাজে কাজের কারণে তার আশেপাশের নারীদের প্রতি প্রতিহিংসা।

বিধবা নারীকে এভাবে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার দায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালামের বিচার চেয়েছেন অনেকে। আবুল কালামের যৌন হয়রানিমূলক ছবি পোস্ট করে নিন্দা করায় ‘নারী’ নামক একটি পেইজের অ্যাডমিনকে হুমকি দিয়েছেন তার এক কর্মী। এতটাই ঔদ্ধত্য আবুল কালামদের!

আবুল কালামের এই কুকীর্তির ছবি দেখলেও কোনো অভিযোগ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে আলীকদম থানা পুলিশ। জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও। নিজ পাড়ায় প্রকাশ‌্যে আবুল কালামের কুরুচিপূর্ণ থাবার প্রতিবাদ করার সাহস করতে পারেননি যে নারী, তিনি থানা পুলিশ করতে আসবেন?

তবে কি এভাবেই যৌন হয়রানির বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে থাকবেন আবুল কালামরা? আর তার প্রতিবাদে নির্বিচারে আরও কিছু নারীকে গালমন্দ করতে থাকবে কিছু মানুষ?

যৌন নিপীড়ন বন্ধ হোক। বিচারের আওতায় আনা হোক নিপীড়ক আবুল কালামদের।

 

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply