ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ

|

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অভিবাসী।
বিবিসি অনলাইন জানিয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই পরিবার নিয়ে কোলাহলমুক্ত ও বিশুদ্ধ পরিবেশে একুট শান্তিতে জীবনযাপন করতে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করছিলেন। এ ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড। সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে ছবিসহ নিহতদের নাম ও বয়স উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিসর, জর্ডান, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও সোমালিয়ার নাগরিক রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আছে ২ শিশু ও ২ কিশোর। তারা হলো- মুকাদ ইব্রাহীম (৩), আবদুল্লাহ দিরিয়া (৪), সায়দ মিলনে (১৪) ও হামজা (১৬)।

তালিকায় প্রকাশিত নিহতরা হলেন- ওসামা আদনান আবু কাইক (৩৭), মহসিন আল হারবি (৬৩), জিহান রাজা (৩৮), লিন্ডা আর্মস্ট্রং (৬৫), কামাল দারিশ (৩৯), মাহবুব খন্দকার (৬৫), খালেদ মুস্তফা (৪৫), ড. হারুন মাহমুদ (৪০), মোহাম্মদ আবদুস সামাদ (৬৬), নাঈম রশিদ ও তার ছেলে তালহা (২১), হুসনে আরা পারভিন (৪২), আলি ইলমাদানী (৬৬), তরিক রহমান (২৪), সৈয়দ জাহানদাদ আলি (৪৩), মনির সোলায়মান (৬৮) ওজায়ের কাদের (২৪), মোহাম্মদ ইমরান খান (৪৭), আমাদ জামালুদ্দিন আবদুল গনি (৬৮), সৈয়দ আরীব আহমেদ (২৬). মাতুল্লাহ সাফি (৬৫), হুসাইন মোস্তফা (৭০), রমিজ ভোরা (২৮), লিলিক আবদুল হামিদ (৫৮), হাজি দাউদ নবী (৭১), ফরহাজ আহসান (৩০), মোহাম্মদ আলি ভোরা (৫৮), মোজাম্মেল হক (৩০), গোলাম হুসেইন ( ৬০), আত্তা ইলায়ান (৩৩), করম বিবি (৬০), হুসেইন আল উমারি (৩৬), মুসা ওয়ালি সুলেমান প্যাটেল (৬০), মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৩৬), আবদেল ফাত্তাহ কাসেম (৬০), জুনায়েদ ইসমাইল (৩৬) এবং আশরাফ আলী (৬১)।

হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া। এর মধ্যে আছেন লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ। পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীকে খুজতে গিয়ে মারা যান হোসনে আরা ফরিদ।

নিহতের তালিকায় থাকা ছোট্ট শিশু মুকাদ বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ওই দিন আল নুর মসজিদে গিয়েছিল। বাবা ও ভাই সেদিন পালিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারলেও শিশু মুকাদ ট্যারান্টের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

আফগান প্রকৌশলী দাউদ নবী বীরত্বের সঙ্গে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন সেদিন। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখত, কিশোর সায়াদ মিলনে (১৪)। মায়ের সঙ্গে আল নুর মসজিদে তার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটল। আর মাঠে দেখা যাবে না সায়াদকে।

পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ থেকে আসা নাইম রশিদ (৫০) অনেকটা সময় বেঁচেছিলেন। তবে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মৃত্যু হয় তার।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় বন্দুকধারীকে মোকাবেলার চেষ্টা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন নাইম রশিদের ছেলে তালহা রশিদও। পরিবার সূত্রে জানা গেছে বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল তার।

সাত মাস বয়সী ও তিন বছর বয়সী দুই শিশুসন্তান রেখে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ভারতের হায়দরাবাদ থেকে আসা ফারহাজ আহসান।

নিহত হয়েছেন সিরিয়া যুদ্ধে শরণার্থী খালেদ মোস্তফা। যুদ্ধে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর বুলেটের আওয়াজকে ত্যাগ করে শান্তিতে বাঁচতে নিউজিল্যান্ড এসেছিলেন তিনি। সেই অস্ত্র থেকে রেহাই পায়নি তার জীবন। এ ঘটনায় তার এক ছেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নাগরিক হুসাইন আল ওমারি (৩৫) ও জান্নাহ ইজাত রয়েছে নিহতের তালিকায়। ঘটনার দিন সাত ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক আল নুর ও লিনউড মসজিদে ছিলেন। পাঁচজন নিরাপদে পালিয়ে আসতে পারেন। তবে নিহত হয়েছেন লিলিক আবদুল হামিদ।









Leave a reply