পলান সরকারের দাফন সম্পন্ন

|

রাজশাহীতে পারিবারিক কবরস্থানে একুশে পদকপ্রাপ্ত- সাদা মনের মানুষ পলান সরকারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বাঘার উপজেলার বাউশা গ্রামে গতকাল বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯৮ বছর।

১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই মানুষটি মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ পান। অথচ বইয়ের প্রতি তাঁর প্রেম ছিল আজীবন। রাজশাহীর ২০টি গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন অভিনব শিক্ষা আন্দোলন। নিজের টাকায় বই কিনে পড়তে দিতেন পিছিয়ে পড়া মানুষকে।

এজন্য কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে, বাড়ি বাড়ি যেতেন তিনি। সামাজিকভাবে অবদান রাখায় ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক পান তিনি। এছাড়া পড়ার আগ্রহ সৃষ্টির করায় তাকে ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। তাকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটক তৈরি হয়েছে। পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন। তবে দেশব্যাপী তিনি পলান নামেই পরিচিতি পেয়েছেন।

১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই বই পাগল গুণী ব্যক্তিটি প্রথম দিকে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিলি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা তালিকায় ১ থেকে ১০ ক্রমিক নম্বরদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন।

তবে এর কিছু দিন পর থেকে সবাইকে বই দেয়া শুরু করেন। এভাবে পায়ে হেঁটে একটানা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বই বিলি করেছেন পলান সরকার।

৬ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন পলান সরকার।









Leave a reply