অদ্ভুত এক মিছিল …

|

কেউ এসেছিলেন হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করতে। কেউবা ওষুধের দোকানে। সেখান থেকেই আচমকা যোগ দিলেন মিছিলে। ওষুধ দেন যে চিকিৎসক তারাও আছেন এই মিছিলে। সন্তানসহ রিকশা করে কোথাও যাচ্ছিলেন এক দম্পতি। তারাও যোগ দিলেন। যোগ দিলেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। নানীর বাসা থেকে বাবার সাথে নিজের বাসায় যাবে, সেজন্য বাবার দোকানে গিয়েছিল ছোট আশরাফুল। বাবা অপু আর চাচা আলমকে সাথে নিয়ে সেও যোগ দিলো অদ্ভুত এই মিছিলে। এ কোনো আনন্দ মিছিল নয়, নয় সচেতন দাবি আদায়ের মিছিল। বরং কিছু মানুষের অসচেতনতার সাথে আকস্মিক দুর্ঘটনার যোগে পোড়া গন্ধযুক্ত এক লাশের মিছিল এটি।

মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা

বিশ্বব্যাপী যখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে তখনি কিনা সবার ভাষা কেড়ে নিলো এই লাশের মিছিল। চকবাজারের চুরিহাট্টার নন্দকুমার দত্ত রোডে রাত পৌনে ১১টার দিকে একটি প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত। বিস্ফোরণে গাড়িটি কয়েক ফুট উপরে ওঠে আঘাত হানে ট্রান্সফরমারে। সেটিও বিস্ফোরিত হয়ে ছড়িয়ে যায় আগুনের লেলিহান শিখা। রাস্তায় থাকা গাড়ি আর পাশের ভবনে মুহূর্তেই লেগে যায় আগুন। সেই ভবনে আবার ছিল রাসায়নিক কারখানা। ছিল খাবারের হোটেল, ওষুধের দোকানও। ঘটতে থাকে একের পর এক বিস্ফোরণ। এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন আরও অনেকে।

আর কত লাশের মিছিল

 

স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ

 

এ চোখের পানি থামবে কিসে?

 

হায় পৃথিবী!

স্বজনরা ভগ্ন হৃদয়ে মর্গের আশেপাশে ভিড় করে আছেন। সুরতহাল শেষে প্রিয়জনের লাশ বুঝে পেয়েছেন কেউ কেউ। কাঠের কফিনে করে সেটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শেষ ঠিকানায়। ভাষাহীন যন্ত্রণা আর কান্নার লোনা জলে সৃষ্টি করেছেন আরেক মিছিল- কফিন মিছিল।

শেষ যাত্রা…

অদ্ভুত মিছিল এক…অদ্ভুত এক যাত্রা…

Posted by Jamuna Television on Thursday, 21 February 2019

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply