সান্ত্বনার ভাষা কী?

|

একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিনে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের দিনে ঘুরে ফিরে উঠে আসছে আরেকটি তারিখ। ২০১০ সালের ৩ জুন! সেদিন সন্ধ্যায় রাসায়নিকের আগুনে জ্বলে উঠেছিল পুরান ঢাকার নিমতলী, দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিল ১২৪ জন। পেরিয়ে গেছে ৯ বছর। কিন্তু, বোধোদয় কি হয়েছে? আবারও আগুন। আবারও পুরান ঢাকা। আবারও রাসায়নিক কারখানা। এবার দগ্ধ হয়ে অন্তত ৭০ জন মৃতের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস বলছে, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঢাকা মেডিকেলের চিত্রও তাই বলছে, বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা।

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও বেশ ক’জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদভ্রান্তের মতো তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন স্বজনেরা। আগুনের সূত্রপাত ঘটা রাজ্জাক ভবনের সামনে তিন‌টি মোটরসাইকেলে ছিলেন ছয়জন। খোঁজ পাওয়া গেছে চারজনের। তবে সিয়াম ও রোহা‌ন নামের দুজনের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ একজনের বাবা মোহাম্মদ হো‌সেন ঢামে‌কে‌র সাম‌নে ডুকরে ডুকরে কাঁদ‌ছেন।

পিতা হারানোর শোক। সান্ত্বনার ভাষা কী?[/caption]

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন চকবাজারে কসমেটিকস ব্যবসায়ী সিদ্দিকুল্লাহ। বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে। গতকাল রাতে বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনাও হয়েছিলেন। কিন্তু, তার আগে খেতে বসেছিলেন হোটেলে। সেখানে ভস্মীভূত হতে হলো! হাসপাতালের সামনে আহাজারিরত তার ছেলেকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা কী ভাষা দিবসে খুঁজে পাওয়া যাবে?

উদভ্রান্তের মতো স্বজনকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন এই নারী

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মাহিরকে খুঁজে পাচ্ছে না পরিবার। ভাইকে খুঁজতে মেডিকেল চষে বেড়াচ্ছেন বোন নূর এ আনহা। আগুনে জহির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির দোতলা বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নিখোঁজ জহিরের খোঁজে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন ভাগনে রিফাত নেওয়াজ। জানিয়েছেন, তার মামার মুঠোফোন বাজছে, কিন্তু কেউ ধরছে না।

গিয়াসউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জানালেন, চুরিহাট্টার ফা‌র্মে‌সি‌তে ওষুধ কিন‌তে গি‌য়ে‌ছি‌লেন তার ভাবি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ। ভাই আবদুর রহিমকে খুঁজে পাচ্ছেন না ইসমাইল হোসেন। জানালেন, খেলনার দোকানের ব্যবসা তার ভাইয়ের।

রায়হান নামের একজন জানান, বোন সোনিয়া, দুলাভাই মিঠুসহ ভাগনে শাহিদ সেই পথ দিয়ে রিকশায় যাচ্ছিলেন। তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য স্থানীয়রা জানালেন, শিশুসহ এক দম্পতিকে রিকশায় চড়ে যেতে দেখেছেন। যাত্রীসহ সে রিকশাটি ভস্মীভূত হয়েছে।

পুরান ঢাকার বাতাসে এখন লাশপোড়া গন্ধ। স্বজন হারানোর আহজারিতে সেটি আরও ভারি হয়ে উঠেছে। শতশত শোকগাঁথার পরও কি বোধোদয় হবে আমাদের? বন্ধ হবে অলিগলির রাসায়নিক কারখানা?

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply