গাইবান্ধার ৬ উপজেলায় চেয়ারম্যানসহ ২৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার ছয় উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে তিনটি পদে ২৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরমধ্যে চেয়ারম্যান ৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ১২ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। ছয় উপজেলায় তিনটি পদে মোট ১১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এসময় মনোনয়ন দাখিল করা প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। যাচাই-বাছাইয়ে ঋণ খেলাপী, হলফনামায় তথ্য গোপন ও ভোটারের তালিকায় ক্রটিসহ বিভিন্ন কারণে চেয়ারম্যান পদে আটজনসহ মোট ২৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে ছয় উপজেলায় চেয়ারম্যান ২৯, ভাইস চেয়ারম্যান ৪৭ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান ৩৬ জনসহ মোট ১১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

মনোনয়ন বাতিল হয়েছে সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে (আ’লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী শাহ সারোয়ার কবীরের। ভোটারের তালিকায় ক্রটির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হয়। এছাড়া উপজেলায় দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও এক নারী ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। সাদুল্যাপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী আলহাজ শাহারিয়া খাঁন বিপ্লব ও আজিজার রহমান বিএসসি (আ’লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপন (মামলা নিস্পত্তির কাগজ দাখিল না করায়) বিপ্লবের মনোনয়ন বাতিল হয়। ভোটারের তালিকা ও হলফনামায় ক্রটির কারণে আজিজার রহমানের মনোনয়ন বাতিল হয়। এ উপজেলায় চারজন ভাইস চেয়ারম্যান ও তিনজন নারী ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে (আ’লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থী তৌফিকুল আমিন মণ্ডল টিটুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। টিটু হোসেনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া এ উপজেলায় দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তিন (আ’লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থীর। তারা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ফেরদাউস আলম রাজু, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল ইসলাম লিটন ও কামরুল হাসান ফাইয়ান। ভোটারের তালিকায় ক্রটির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়। এছাড়া এ উপজেলায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও দুই নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর।

ফুলছড়ি উপজেলায় শুধু দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া সাঘাটা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ওয়ার্কাস পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদের ঋণ খেলাপীর কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তবে এ উপজেলায় অন্য কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

তবে মনোনয়ন বাতিল হওয়া অধিকাংশ প্রার্থীরা তাদের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার জন্য নিয়ম মাফিক আপিল করবেন বলে জানা গেছে। আগামি ২৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। দ্বিতীয় দফায় ছয় উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৮ মার্চ। এবার ছয়টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

 









Leave a reply