গাপটিলের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে জিতল নিউজিল্যান্ড

|

লক্ষ্যটা বড় ছিল না, মাত্র ২৩৩। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের এ রানের আগে আঁটকে রাখতে হলে জাদুকরী বোলিং উপহার দিতে হতো মোস্তাফিজদের। তবে বল হাতে দ্যুতি ছড়াতে পারলেন না তারা। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। বাংলাদেশের বিপক্ষে হেসেখেলে জিতল কিউইরা। ৮ উইকেটে দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল তারা।

জয়ের নায়ক মার্টিন গাপটিল। একে একে হারান দুই সঙ্গী। তবে থেকে যান তিনি। শুরুতে একটু নড়বড়ে দেখালেও সময় গড়ানোর সঙ্গে ছন্দে ফেরেন। পরে স্ট্রোকের পসরা সাজান। ফিফটি তুলে এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। তাকে শেষদিকে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন রস টেলর।একজনের অসাধারণ সেঞ্চুরি ও আরেকতে জয়ের পথে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন হেনরি নিকোলস ও মার্টিন গাপটিল। স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটান তারা। তাতে উড়ন্ত গতিতে ছোটে নিউজিল্যান্ড। বিনা উইকেটেই ১০০ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। এরপরই খেই হারান নিকোলস। মেহেদী হাসান মিরাজের বল উইকেট ছেড়ে মারতে এসে ইনসাইড এজ হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে তুলে নেন ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি। ৮০ বলে ৫ চারে ৫৩ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটার।

নিকোলস ফিরলে ক্রিজে আসেন কেন উইলিয়ামসন। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অধিনায়ক।

ম্যাকলিন পার্কে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। তবে শুরুতেই হোঁচট খায় টাইগাররা। ট্রেন্ট বোল্টের সর্পিল সুইংয়ে উইকেটের পেছনে টম লাথামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইনফর্ম ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ম্যাট হেনরির বলে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন লিটন দাস।

প্রিয় পজিশন চারে ব্যর্থ হন মুশফিকুর রহিম। বোল্টের বলে কাট করতে গিয়ে তিনি প্লেড-অন হয়ে ফিরলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এ পরিস্থিতিতে অবিচল থাকতে পারেননি সৌম্য সরকার। হেনরির বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা এ বাঁহাতি। ফেরার আগে ২২ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ছোটখাটো ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।

পরে খেলা ধরার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাকে যথার্থ সঙ্গ দেন মোহাম্মদ মিথুন। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন তারা। তবে বোঝাপড়া গড়ে উঠতেই পথচ্যুত হন মাহমুদউল্লাহ। লুকি ফার্গুসনের বলে রস টেলরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

চরম বিপর্যয়ের মুখে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সাব্বির রহমান। মিচেল স্যান্টনারের বলে ভারসাম্য হারিয়ে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফেরেন তিনি। এ হার্ডহিটার ফিরলে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মিথুন। ভালো সঙ্গও পান তিনি। ফলে তাদের মধ্যে জুটি গড়ে ওঠে।

এতে কচ্ছপগতিতে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু আচমকা থেমে যান মিরাজ। ক্রিজে নামার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। স্যান্টনারকে বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২৬ রানে জিমি নিশামকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি।

এতে ১৩১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠেন মিথুন। প্রথমে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন তারা। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। ফলে রানও আসতে থাকে। তাতে এগোয় সফরকারীরা।

পথিমধ্যে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অনন্য ফিফটি তুলে নেন মিথুন। ফিফটির দোরগোড়ায় এগিয়ে যান তাকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দিয়ে যাওয়া সাইফউদ্দিনও। তবে হঠাৎই পথ হারান তিনি। স্যান্টনারের বলে মার্টিন গাপটিলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সাইফ। ফেরার আগে ৫৮ বলে ৩ চারে ৪১ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন তিনি।

তাতে ভাঙে রেকর্ড ৮৪ রানের জুটি। অষ্টম উইকেটে এটিই দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ। এর আগে সেরা জুটি ছিল খালেদ মাসুদ ও মোহাম্মদ রফিকের। ২০০৩ বিশ্বকাপে কিম্বার্লিতে হার না মানা ৭০ রানের জুটি গড়েন তারা এ ব্ল্যাক-ক্যাপসদের বিপক্ষেই।

সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মিথুন। এবার তার লড়াইও থামে। ফার্গুসনের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। বিদায়ের আগে ৯০ বলে ৫ চারে ৬২ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলেন এ মিডলঅর্ডার। খানিক পরই বোল্টের বলে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন মোস্তাফিজুর রহমান। এতে ২৩২ রানে থামে মাশরাফিদের ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের হয়ে বোল্ট ও স্যান্টনার নেন ৩টি করে উইকেট। ২টি করে উইকেট ঝুলিতে ভরেন হেনরি ও ফার্গুসন।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply