গাইবান্ধায় বাসে পেট্রোলবোমা হামলার চার বছরেও শুরু হয়নি বিচারকাজ

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
আজ ৬ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধায় যাত্রীবাহী নৌশ কোচে বর্বরোচিত পেট্রোলবোমা হামলার ৪ বছর। হামলায় প্রাণ হারায় শিশুসহ আটজন। ঘটনার এক বছর পরেই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৭৭ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চর্জশিট দাখিল করে পুলিশ। কিন্তু আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হলেও আজও শুরু হয়নি স্বাক্ষ্য গ্রহণ। তবে দ্রুতই স্বাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরুর আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ো বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধ-হরতাল চলছিলো। রাত ১০টার দিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজার থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলো নাপু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি নৌশ কোচ। নৌশ কোচে যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন দিনমজুর। কোচটি গাইবান্ধা সদরের তুলসীঘাটের বুড়িরঘর নামক এলাকায় পৌঁছিলে পেট্রোলবোমা হামলা চালায় জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই জীবন্ত দ্বগ্ধ হয়ে মারা যায় শিশুসহ ৬ জন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দ্বগ্ধ হয় শিশুসহ অন্তত ৩০ জন নারী-পুরুষ।

এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৬০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। ঘটনার এক বছর একমাস ১৯ দিন পর বিএনপি-জামায়াতের ৭৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

এদিকে, হামলার শিকার হতাহতের পরিবারের সদস্যরা বেঁচে আছেন নানা কষ্টে। স্বজন হারানোর বেদনা আজও ভুলতে পারেনি অনেকে। আহত অনেকেই শরীরে ক্ষতের চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন। এ ঘটনার পর সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তা পেলেও এখন পর্যন্ত আর কেউ তাদের খোঁজও রাখেনি।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘চার্জশিট দাখিলের পর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হলেও শুরু হয়নি বিচার কাজ। তবে আগামী ৩ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে দিয়ে বিচার কাজ শুরুর কথা রয়েছে’।

এদিকে, মামলার পর তিন বছরে চার্জশিটভূক্ত ৭৭ জনের মধ্যে অধিকাংশই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু বর্তমানে তারা সকলে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত। এরমধ্যে ঘটনার কয়েকদিন পরেই মামলার প্রধান আসামি শিবিরকর্মী মোস্তফা মঞ্জিল আইনশৃঙ্খলাবাহীনির সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হন।









Leave a reply