ডাকসু নির্বাচন: ছাত্রলীগে প্রার্থিতা পেতে দৌড়ঝাঁপ

|

তোয়াহা ফারুক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের পাশাপাশি সদ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছেন। শুধু তাই নয়, টিএসসি ভিত্তিক বেশ কিছু সংগঠনও ছাত্রলীগের সাথে যৌথভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করতে চায়। প্রার্থী হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের এই আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলেই জানিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের চূড়ান্ত করবেন তাদের জন্যই কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।

ডাকসু নির্বাচনে মূলত, মেধাবী, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের প্রাধান্য দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে অগোছালো ছাত্রলীগকে দেখভালের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে চার জন আওয়ামী লীগ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন জনাব আব্দুর রহমান তাদের একজন। প্রার্থিতার জন্য দৌড়ঝাঁপের বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জনাব আব্দুর রহমান বলেন, অনেকের চাহিদা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, সবার চাহিদা তো পূরণ করা সম্ভব না। বিভিন্ন উপায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বিগত কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এদেরই একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাওয়ায় ছাত্র সমাজ অত্যন্ত আনন্দিত। আমি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেছি। যদি তাদের সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই খুশি হবো।

ছাত্রলীগের সাথে জোট করে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ আছে টিএসসি ভিত্তিক সংগঠনগুলোর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাথে এই সংগঠনগুলোর যৌথ প্ল্যাটফর্ম ‘সম্মিলিত সাধারণ শিক্ষার্থী সংসদ’ এর অন্যতম নেতা ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি- ডিইউডিএস’র সভাপতি এস এম রাকিব সিরাজী জানান, আমরা প্যানেল দেয়ার কথা ভাবছি। জোট ভিত্তিক রাজনীতির যুগে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোনো শক্তির সাথে আমরা প্যানেল দিবো।

সেক্ষেত্রে, বাম সংগঠনগুলো তাদের বিবেচনায় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধিকাংশ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করে এমন ছাত্র সংগঠনের সাথে আমরা যৌথভাবে প্যানেল দিতে চাই।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, টিএসসি ভিত্তিক সংগঠনগুলোর সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। অবশ্যই, তাদের সাথে আমরা বসবো, কথা বলবো। পাশাপাশি, ছাত্র মৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগসহ সমমনা সংগঠনগুলোকে নিয়ে করা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানার সক্রিয় করার কথা ভাবছি আমরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদ পাবেন এমন নেতাদের বদলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় সক্রিয় থাকবে এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিলে তা ভোটারদের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হবে। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, সাংগঠনিকভাবে শেষ পর্যন্ত যাকেই প্রার্থী করা হবে আমরা তাকে বিজয়ী করার জন্যই কাজ করবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন যমুনা নিউজকে বলেন, যত বেশি আগ্রহী প্রার্থী থাকবে আমাদের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের ভিপি-জিএস পদে মনোনয়ন দেবে সবাই মিলে তাদের পক্ষে কাজ করবো। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা নেই।

ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই ফাইনাল। সেদিকেই তাকিয়ে আছেন তারা। তবে, তাতে থেমে নেই প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply