নির্বাচন ঘিরে দুই পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি

|

হয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, নয়তো আবারও নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলন। মূলত এ দুই পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই এগুচ্ছে বিএনপি। দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, সহায়ক কিংবা অন্য যে নামেই হোক ”নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার” ইস্যুতে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বিএনপি। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আবার আন্দোলেনর প্রস্তুতি ও ক্ষেত্র তৈরির কাজও করছে। তবে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক আগ্রহ আছে আগামী নির্বাচন নিয়ে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকাসহ নানা কারণেই, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উদগ্রীব বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। যৌক্তিক কোনো কারণ থাকুক কিংবা নাই থাকুক, নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস- আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সুদিনে ফিরবে দলটি।

নেতা-কর্মীদের এমন ভাবনায় নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে চাপ বাড়ছে বিএনপিতে। আবার দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় সমালোচনাও আছে দলের ভেতরে-বাইরে। অন্যদিকে, প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সাথে বিপরীতমুখী অবস্থানে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। এমনকি আগের তুলনায় আরও অনেক বেশি হার্ড লাইনে আছে সরকার। এমন জটিল সমীকরণে কোন পথে এগুবে বিএনপি?

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। যদি এরপরেও না হয়, তাহলে আমাদের সামনে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।

যদিও সংসদ নির্বাচনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে বিএনপির সামগ্রিক রাজনীতি। ইসি পুনর্গঠনে খালেদা জিয়ার ১৩ দফা প্রস্তাব, ‘ভিশন ২০৩০’ কিংবা কমিশনের সঙ্গে বিএনপির সংলাপ- সব কিছুতেই নিরপেক্ষ সরকারকে প্রাধান্য দিয়েছে দলটি। আগামী মাসে সহায়ক সরকারের রূপরেখাও দিতে পারে বিএনপি।

এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সহায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে আমাদের কাজ প্রায় চুড়ান্ত। নেত্রী চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। আশা করছি শিগগরিই আমরা এটি জনগনের সামনে প্রকাশ করতে পারবো।

তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নিবার্চন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে চায় বিএনপি। এমনকি সমঝোতার ভিত্তিতে হলে ৫ জানিয়ারি নির্বাচনের আগে সরকারের পক্ষে থেকে যেসব প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো সে ধরনের প্রস্তাব এবার পেলে তা নিয়ে আলোচনায় রাজি থাকবে বিএনপি- এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ।

নীতি নির্ধারকদের বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে আরো কিছুদিন সরকারের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপি। এরপর দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তারা।

 





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply