রোবটকে নাগরিকত্ব, সৌদি সিদ্ধান্তের সমালোচনা

|

একই সাথে নজিরবিহীন এবং অদ্ভুত এক ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে কোনো রোবটকে মানুষের মতো করে ‘নাগরিকত্ব’ দিলো দেশটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নারীর বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন রোবট সোফিয়ার নাগরিকত্ব রিয়াদে ঘোষণা করা হয় বৃহস্পতিবার।

ঘোষণার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনায় মুখর হয়েছেন অনেকে। প্রশ্ন তুলছেন, যে দেশে মানুষের মর্যাদারই এখনো বালাই নেই, সে দেশে কোনো যন্ত্রকে এভাবে ‘মর্যাদা’ দেয়া পরিহাসেরই নামান্তর।

সৌদি আরবে নারীরা বহু ধরনের সাধারণ অধিকার থেকে বঞ্চিত। সম্প্রতি পেয়েছেন ভোট ও গাড়ি চালানোর অধিকার। পোশাক পরার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা-নিষেধ, ঘরের বাইরে একা বের হতে না দেয়ার পাশপাশি এখনো বহু সামাজিক অধিকার ছাড়াই বাঁচতে হয় সৌদি নারীদের। দেশটিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যাওয়া লাখো মানুষও বঞ্চিত হন তাদের অনেক অধিকার থেকে। শ্রমিকদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশটিতে নিত্যদিনের ঘটনা।

মানুষের সাথে যখন এমন আচরণ, তখন যন্ত্রকে নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্তকে উপহাস সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। এক টুইটার ব্যবহারকারী রোবট সোফিয়ার ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘সোফি, যেহেতু তুমি সৌদি নাগরিক হয়ে গেছো, তাই এখন থেকে বোরকা ছাড়া চলাচল করতে পারবে না!’

অন্য একজন টুইট করে প্রশ্ন তুলেছেন, সোফিয়ার মধ্যে নারীর বৈশিষ্ট্য থাকায় তাকেও কি ঘরের বাইরে বের হতে অন্য পুরুষ অভিভাবককে সাথে নিতে হবে? নাকি তার ক্ষেত্রে সৌদি আইন শীতিল হবে!

এদিকে সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘ মেয়াদে আইনি জঠিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক জন বেনজাফ বলেছেন, সৌদি আরবের সাথে অন্যান্য যেসব দেশের দ্বিপক্ষীয় নাগরিকত্ব চুক্তি আছে তারা ভবিষ্যতে পারস্পরিক নাগরিকদের অধিকার নির্ধারণ নিয়ে জঠিলতায় পড়তে পারেন। সোফিয়াকে সৌদি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে অন্যান্য দেশকেও!









Leave a reply