ফরিদপুরে দলিল জালিয়াতির মামলায় ৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

|

?????????????????????

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরে জমির দলিল জাল করার দায়ে একজন শিক্ষক, নকল নবিশ ও রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়নসহ ৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের হাকিম মো. মতিয়ার রহমান।

আদালত নগরকান্দা শ্রীরামদিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে ১৮৬০ সালের ৪৬৭ দন্ডবিধিতে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাকে আরও ৬মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন একই সাথে তাকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় ৭ বছর স্বশ্রম কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫দিন স্বশ্রম করাদণ্ড দেন।

আদালত নগরকান্দা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন আবু বকর সিদ্দিকীকে দন্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর স্শ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২মাস বিনাশ্রম করাদণ্ড একই সাথে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ৫ বছর স্বশ্রম করাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এছাড়া আদালত ওই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ছয় নকল নবিশ এসমেতারা বেগম, সুজিত কুমার বিশ্বাস, দেলোয়ার হোসেন, ঊষা বিশ্বাস, আনঞ্জু আক্তার ও মোহাম্মদ আলীকে দন্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর স্বশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

রায় ঘোষণার সময় গিয়াসউদ্দিন মোল্লা ও এসমেতারা বেগম ছাড়া অন্য ছয় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। মামলা চলাকালীন সময়ে গিয়াসউদ্দিন ও এসমেতারা গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে জামিন নিয়ে তারা পলাতক হন।

বিশেষ জজ আদালতের পিপি মজিবর রহমান জানান, নগরকান্দার পোড়াদিয়া গ্রামের শেখ আব্দুল মোতালেব ও তার দুই ভাই মুরাদ হোসেন ও ফরহাদ হোসেন ২০১২ সালের ৫ মার্চ ওই এলাকার বারেক মোল্লাসহ সাত জনের কাছ থেকে ৩৯ শতাংশ জমি কেনেন। ওই বছর ১১ মার্চ গিয়াসউদ্দিন মোল্লা ওই জমির মালিক দাবি করে ওই জমির দাতা ও গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে নগরকান্দা থানায় ১৪৪ ধারায় একটি পিটিশন করেন। পরে তদন্ত করে দেখা যায় গিয়াসউদ্দিন জমির গ্রহিতা না হওয়া সত্ত্বেও নগরকান্দা রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারি ও নকল নবিশদের সহায়তায় ওই দলিলের চার নম্বর গ্রহিতা হিসেবে নিজের নাম বসিয়ে এবং জমির অংশ কাটাকাটি করে নিজেই জমির মালিক হন।

এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ২ মে শেখ আব্দুল মোতালেব বাদী হয়ে গিয়াসউদ্দিনসহ ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে এ মামলাটির তদন্ত করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন। তদন্ত চলাকালে এ মামলার দুই আসামি মারা যান।

গত ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিনসহ ৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।









Leave a reply