স্বামীকে খুন করে কাজে গেলেন স্ত্রী

|

পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক রফিকুলকে হত্যার পর ৬ টুকরা করে লাশ গুম করে তারই স্ত্রী জীবন নাহার। আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

বেতনের টাকা নিয়ে কলহের জেরেই গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী জীবন্নাহার তার স্বামী রফিকুল ইসলাম খুনের নৃশংস ঘটনা বর্ণনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাসসুন্নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ, শ্রীপুর থানার ওসি মো. জাবেদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, স্বামী রফিকুল ইসলাম, জীবন্নাহারকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ির মেঘনা কারখানার সীমানা প্রাচীরের পাশে গিলার চালা এলাকার আব্দুল হাই মাস্টারের বাড়ি ভাড়া থাকতেন। রফিকূল স্থানীয় হাউ আর ইউ কারখানায় লোডার পদে এবং স্ত্রী স্থানীয় মেঘনা নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় সুয়িং অপারেটর পদে চাকুরি করেন।

স্বামী বেতন পেতেন সাত হাজার টাকা আর স্ত্রী বেতন বেতন পান ১৩হাজার টাকা। বিভিন্ন সময় স্বামী তার স্ত্রীর বেতনের টাকা তার কাছে দিতে বলতেন। কিন্তু জীবন্নাহার বেতনের টাকা তার কাছে না দিয়ে মার কাছে পাঠিয়ে দিত। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হত। সপ্তাহ খানেক আগে স্ত্রী জীবন্নাহার, স্বামী রফিকুলকে ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে স্ত্রীকে থাপ্পর মেরে স্বামী খাঁটে শুয়ে থাকেন। এসময় কিছু বুঝে ওঠার আগে স্ত্রী জীবন্নাহার ইট দিয়ে স্বামীর মাথায় আঘাত করলে খাট থেকে নীচে পড়ে যান। এমতাবস্থায় স্ত্রী উপর্যুপরি ইট দিয়ে স্বামীর মাথায় আঘাত করলে অচেতন হয়ে পড়েন রফিকুল ইসলাম। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরে থাকা ওয়ার্ড ড্রপে লাশটি লুকিয়ে রেখে জীবন্নাহার কারখানায় চলে যান।

পরে বাসায় ফিরে রাত ১১টার দিকে লাশটি ওয়ার্ড ড্রপ থেকে বের করে বটি দিয়ে দুই হাত কুনই থেকে, দুই পা হাটু থেকে এবং ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে মাথা-হাত-পা বিচ্ছিন্ন দেহাংশটি বস্তায় ভরে পাশের বাঁশ ঝাড়ে, পা দুটি অদূরে টয়লেটের পাশে এবং মাথা, দুই হাতের অংশগুলো ময়লার ড্রেনে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে এলাকাবাসী বাঁশ ঝাড়ের নিচে রক্তমাখা বস্তা ও লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে দুপুরে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই খন্ডিত লাশ উদ্ধার করেন এবং স্ত্রী জীবন্নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে জীবন্নাহার খুনের ঘটনা স্বীকার করেন।

পাঁচ বছর আগে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার উলামাকান্দি এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষমপুর গ্রামের চাঁনমিয়ার মেয়ে জীবন্নাহারের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে মারিয়া আক্তার রোজা নামের চার বছরের একটি কন্যা শিশু রয়েছে। রোজা বেশির ভাগ সময়ই তার নানী বাড়ি থাকতো। ঘটনার দিনও রোজা বাসায় ছিল না।

শ্রীপুর থানার ওসি মো.জাবেদুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে রফিকুলের বাবা আব্দুল লতিফ বাদি হয়ে জীবন্নাহারকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় আটক জীবন্নাহারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, গতকাল গিলারচালা গ্রামের একটি বাঁশঝাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রফিকুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জীবন নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন তারা। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জীবন নাহার।









Leave a reply