বিশ্বের সর্বোচ্চ ভাস্কর্যের কুমির বিড়ম্বনা, বিপাকে কর্তৃপক্ষ

|

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ গত অক্টোবরে উদ্বোধন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে নিজেদের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে মনে করে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিজেপি। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক প্যাটেলের ১৪৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৮২ মিটার বা ৬০০ ফুট উঁচু এ ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়।

চীনের স্প্রিং টেম্পল নামে একটি বুদ্ধ মন্দির আগে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য ছিল।

গুজরাটের নর্মদা জেলার সরদার সরোভর বাঁধের সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাধু দ্বীপে নির্মিত হয়েছে ভাস্কর্যটি। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর দেশটির প্রথম সহকারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বল্লভভাই প্যাটেল।

বিজেপি সরকারের পরিকল্পনা করছে ভাস্কর্যটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট হিসেবে তৈরি করবে। তারই অংশ হিসেবে

ভাস্কর্যটি একটি ভবনের অবকাঠামোর উপর নির্মিত হয়েছে। এর ভেতরে কয়েকটি প্রদর্শনী কক্ষ রয়েছে, যেখানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও বল্লভভাই প্যাটেল বিষয়ক বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রদর্শন করা হবে। ভাস্কর্যটির বুক পর্যন্ত উচ্চতা থেকে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করার ব্যবস্থা থাকছে।

পাশের নদীতে নতুন করে আধুনিক নৌযাতায়াত ব্যবস্থা চালু করা হবে। এটা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবেই বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। নৌপথে এক জায়গা দুটি বড় দিঘীতে পাওয়া গেছে বিশাল কুমিরের ঝাঁক। গুজরাট বন কর্তৃপক্ষ বলছে তারা অন্তত ৫০০টি কুমির গুনেছেন। এই আগ্রাসী প্রাণিগুলোকে ওখানে রেখে পর্যটকদের টানা যাবে না। বিপদের ভয় করতে পারেন অনেকে।

এ কারণে পুকুরগুলো থেকে কুমিরদের সরানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে মাত্র ১৫টিকে সরানো সম্ভব হয়েছে। আবার সন্ধান পাওয়া কুমিরগুলোর প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায়। অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কারণে এদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে কিনা তা নিয়ে সরব হয়েছে পরিবেশবাদীরা।

কুমির বিড়ম্বনায় আপাতত বেশ দেরিই হচ্ছে প্রকল্পের কাজ শেষ হতে। ৫০০ কুমির ধরে অন্য সরিয়ে নিতে কয়দিন লাগে তা এখনই বলতে পারছেন না বন বিভাগের লোকজন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।









Leave a reply