ট্রাক উল্টে ১৩ শ্রমিক নিহত: দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

|

কুমিল্লায় ট্রাক উল্টে ১৩ শ্রমিক নিহতের ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাইজার মোহাম্মদ ফারাবীকে আহবায়ক করে জেলা প্রশাসনের ৪ সদস্যের এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন এ্যান্ড ক্রাইম) মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাইজার মোহাম্মদ ফারাবীকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদেরকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হচ্ছেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি দীপন দেবনাথ, চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল-মাহফুজ ও কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশনের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হচ্ছে- চৌদ্দগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মাহফুজ।

শুক্রবার ভোট ৫টার দিকে কয়লার ট্রাক উল্টে ১৩ ঘুমন্ত শ্রমিক নিহত হন। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোলপাশা ইউনিয়নের নারায়নপুর এলাকায় ব্রিক ফিল্ডের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, ভোর সাড়ে ৫টার ব্রিক ফিল্ডের জন্য আনা একটি ট্রাক থেকে কয়লা আনলোড করার সময় হঠাৎ তা উল্টে গিয়ে ব্রিক ফিল্ডের লেবার শেডের (শ্রমিকদের জন্য বানানো মেসঘর) ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর পড়ে। এতে সেখানে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১২ শ্রমিকের মৃত্যু হন।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় মারাত্মক আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।

নিহত শ্রমিকেরা হলেন—নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের সুরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৩০), মানিক চন্দ্র রায়ের ছেলে তরুণ চন্দ্র রায় (২৫), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. সেলিম (২৮), রামপ্রসাদের ছেলে বিপ্লব (১৯), কিশোর চন্দ্র রায়ের ছেলে শংকর চন্দ্র রায় (২২), অমর চন্দ্র রায়ের ছেলে দীপু চন্দ্র রায় (১৯) ও কামিক্ষ্যা চন্দ্র রায়ের ছেলে অমিত চন্দ্র রায় (২০), একই উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের নুর আলমের ছেলে মোরসালিন (১৮) ও ফজলুল করিমের ছেলে মো. মাসুম (১৮), শিমুলবাড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন চন্দ্র রায় (১৯) এবং রাজবাড়ী গ্রামের দীনেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে মৃণাল চন্দ্র রায় (২১), খোকা চন্দ্র রায়ের ছেলে বিকাশ চন্দ্র রায় (২৮) ও ধনু চন্দ্র রায়ের ছেলে কনক চন্দ্র রায় (৩৫)।









Leave a reply