মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে কক্সবাজার-বান্দরবানে র‍্যাবের নতুন ইউনিট

|

মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কক্সবাজার ও বান্দরবান নিয়ে শুরু হচ্ছে র‍্যাবের নতুন ইউনিট। এটি হবে এলিট বাহিনীটির ১৫তম ব্যাটালিয়ন। ফলে ঐ অঞ্চলে ইয়াবাসহ মাদক বিরোধী অভিযানে ব্যাপক সাফল্য আসবে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। নতুন এই ইউনিট এরইমধ্যে স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তারা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদক নির্মূলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা।

দেশে প্রথম ইয়াবার চালান ধরা পড়ে ২০০৬ সালে। তারপর থেকেই এর ভয়াবহতা টের পাচ্ছে মানুষ। মাকড়সার জালের মত পুরো দেশকে আচ্ছন্ন করছে এই মরণনেশা। জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউএনওডিসির হিসাবে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার ইয়াবা কেনা-বেচা হয়।

২০০৮ থেকে ২০১৬ সালে ইয়াবার ব্যবহার বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ২০১২ সালে ইয়াবায় আসক্ত রোগী ছিলো ৫.৭৭ ভাগ। যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১.৬১ ভাগে। ২০১১ সালে ১৩ লাখ পিস উদ্ধারের বিপরীতে ২০১৭ সালে উদ্ধার হয় প্রায় চার কোটি পিস ইয়াবা।

ইয়াবা দমনে কঠোর অভিযান চললেও ধরাছোঁয়ার বাইরে কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। একদিকে ইয়াবাসহ মাদক পাচারের রুট অন্যদিকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার কারণে নিরাপত্তা হুমকি- এসব বিবেচনায় নিয়ে ওই অঞ্চলে আলাদা ব্যাটালিয়ন গঠন করছে র‍্যাব।

নতুন ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকবে কক্সবাজারের ৮টি ও বান্দরবানের ৭টি থানা।

জানা গেছে, মাদক নির্মূলে ২০১৮ পর্যন্ত কোন ধরনের মহাপরিকল্পনা ছিলো না নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর। এমন পরিকল্পনা ছাড়া শুধু অভিযান বা স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা দিয়ে এই মহাব্যাধি দূর করা সম্ভব নয় বলে মত দেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা রহমান বলেন, মাদক নির্মূলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা। অন্যথায় স্বল্প মেয়াদী অভিযানে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য আসবে না।









Leave a reply