নিহত ছাত্রদল নেতার পরিবারকে সমবেদনা জানালো ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

|

মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট ব্যুরো

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সিলেটের বালাগঞ্জে নিহত ছাত্রদল নেতার স্বজনদের সমবেদনা জানালো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা। সারা জীবন পাশের থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেন নিহত সোহেলের পরিবারের সদস্যদের।

এর আগে সিলেটে পৌঁছে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিলের কোন এজেন্ডা থাকলে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এছাড়া জামাত নিয়ে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য একান্তই গণফোরামের বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন সিলেটের বালাগঞ্জের একটি কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সোহেল। ঘটনার ১৫ দিন পর গত সোহেলের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে সিলেটে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বেলা সাড়ে ১১ টায় বিমান যোগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সিলেটে পৌঁছান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মহাসচিব হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ।

সেখান থেকে সরাসরি যান হযরত শাহজালাল (রহ) মাজার জিয়ারতে। এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ বিএনপি ও বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনের নেতা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অসংখ্য নেতাকর্মী।

জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই দখলদারী সরকার জনগণের অধিকার হরন করেছে এবং সংবিধানের লংঘন করেছে । জনগণের রায়কে তারা ডাকাতের মত ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সব রাজনৈতিক দলের সাথে যে সংলাপ করতে চান তাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ গ্রহণ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে  তিনি বলেন, আমাদের এজেন্ডা একটা এই নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে, পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন দিতে হবে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

এই এজেন্ডা না থাকলে সংলাপে বসবেন কিনা এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, সেটা তখন দেখা যাবে। এজেন্ডা জানার পর সংলাপে বসবো কিনা এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রী কি চাচ্ছেন, কি চিন্তা করছেন তার উপর। উনি যদি মনে করেন যে দেশে একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে , জনগণকে তার অধিকার প্রয়োগ করতে দেয়া হয়নি। তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের জানাতে পারেন , নির্বাচন নিয়ে এজেন্ডা থাকলে আমরা আলোচনায় বসবো। এটা পুরোপুরি নির্ভর করবে সময়ের উপর।

ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ঐক্যে কোন প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, কোন রকমের কোন সমস্যা নেই, ঐক্যফ্রন্ট অটুট আছে থাকবে। অনেকগুলো রাজনৈতিক দল মিলে ঐক্য হয়েছে , দলগুলোর মধ্যে কিছুটা সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু সবারই একই উদ্দেশ্য, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কিনা এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন তথা স্থানীয় নির্বাচন সরকারের কোন পরিবর্তন ঘটায় না । সুতরাং এই নির্বাচনগুলো কোন মুখ্য বিষয় নয়। যে নির্বাচন কমিশন এখন আছে সেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে তো জাতীয় নির্বাচন হলো, গোটা পৃথিবী ও বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে কতটা অযোগ্য এই নির্বাচন কমিশন। তাদের কোন যোগ্যতাই নেই নির্বাচনগুলো সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য।

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা হযরত শাহপরান রহ: মাজার জিয়ারত শেষে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন পুলিশের গুলিতে নিহত বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমদ সোহেলের বাড়িতে যান। সেখানে তার কবর জিয়ারত করেন । বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। পরে নিহত সোহেলে বাবা মা ও স্বজনদের সমবেদনা জানান মির্জা ফখরুল সহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

এরপর সেই বাড়িতেই একটি উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নেতারা। বেলা ৩টা ২০মিনিটে সায়েম আহমদ সোহেলের বাড়িতে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার। অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন রিপন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ঐক্যফ্রন্ট নেতা মীর্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নিহত সায়েমের চাচাতো ভাই বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: শাখাওয়াত হোসেন জীবন, গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ, সিসিক কাউন্সিলর কয়েস লোদী, বিএনপি নেতা কলিম উদ্দিন মিলন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি নেতা আবদাল মিয়া, ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি নেতা ময়নুল হক চৌধুরী, ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আছকির আলী।

 









Leave a reply