ইজতেমা নিয়ে দ্বন্দ্ব মেটাতে দেওবন্দ যাচ্ছে ধর্মমন্ত্রণালয়

|

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। প্রতিবছর জানুয়ারিতে ইজতেমার প্রচলন থাকলেও মাওলানা সাদ ও তার বিরোধী পক্ষের দন্ধে এবার তা হচ্ছেনা। ফতোয়া নিয়ে পরষ্পর বিরোধী অবস্থানে অনড় তাবলীগের এই দুই পক্ষ।
তাই সমঝোতার চেষ্টায় দু’পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ মাসেই ভারতের “দেওবন্দ” যাচ্ছে ধর্মমন্ত্রণালয়। সেখানে কোন সুরাহা না হলে দুই ধাপে হবে দুপক্ষের ইজতেমা আয়োজন।

ফতোয়া নিয়ে বাংলাদেশে ইজতেমা আয়োজকদের বিরোধ অনেকদিনের। প্রকট আকারে তা দৃশ্যমান হয় গতবছর ইজতেমার আগে। বিরোধীরের প্রবল বাধায় সেবার তুরাগ তীরে যেতেই পারেননি ভারতের মাওলানা সাদ।

গেল ডিসেম্বরের শুরুতে অবস্থার আরো অবনতি হয়। ইজতেমায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুরাগ তীরে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন দুজন, এঘটনায় আহত শতাধিক। দ্বিধাবিভক্ত তাবলিগের একপক্ষ মাওলানা সাদ এর পক্ষে। অন্যদিকে কোনভাবেই তাকে নেতা মানতে নারাজ কাওমী মাদ্রাসা পরিচালকদের একটা বড় অংশ।

রীতি অনুযায়ী এবছরের জানুয়ারীর ১১ ও ১৮ তারিখ ইজতেমার ঘোষণা দিয়েছিলো মাওলানা সাআদ পক্ষ। তবে সংঘর্ষের আশঙ্কায় তাতে বাধা দেয় প্রশাসন। ফলে ইজতেমার আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মধ্যস্ততার চেষ্টা করে সরকার। তবে বরফ গলেনি কোন পক্ষের। বরং সাআদ পক্ষের সাথে কোন বৈঠকে অসম্মতি জানিয়েছে বিরোধী পক্ষ।

মাওলানা সাদ বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ বলেন, সাদ সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন উলামায়ে কেরাম তার ভুল ধরেছে।

মাওলানা সাদ এর পক্ষের প্রতিনিধি আশরাফ আলী বলেন, সাদ সাহেব যেভাবে বলেছেন তা সেভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

সাদ পন্থী ও সাদ বিরোধী দুগ্রুপের সমন্বয়ক মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি দল দুপক্ষকে নিয়ে দেওবন্দ যাবে সেখানে যা সুরাহা হবে সে অনুযায়ীই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামের চর্চা নিয়ে পারষ্পরিক বিরোধে মর্মাহত তাবলীগের সাধারন মুসল্লীরা। ধর্মের স্বার্থে ভেদাভেদ ভুলে ইজতেমা আয়োজনের প্রত্যাশা করছেন তারা।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইজতেমার আয়োজন হয়। কোন কোন স্থানে সামিল হন কোটির বেশি মুসলমান। তবে আয়োজকদের মতপার্থক্য থাকলেও ইজতেমায় তার প্রভাব পড়েনি কোথাও।









Leave a reply