সৌদিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরলো কিশোরী মুক্তা

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

অস্বচ্ছল পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে সূদুর প্রবাসে পাড়ি জমালেও ভাগ্যে জুটেনি সুখের ছোঁয়া। সৌদি কফিল ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে সারা শরীরে ক্ষত চিহৃ নিয়ে নয় মাস পর বাংলাদেশে ফিরে এসেছে কিশোরী মুক্তা। গায়ের বিভিন্ন অংশে বয়ে বেড়াচ্ছে নির্যাতনের চিহ্ন।

গত শনিবার ০৫ জানুয়ারি দেশে ফিরে এসে রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে ১৬ বছর বয়সের কিশোরী মুক্তা আক্তার। এসময় তার বাম ও ডান হাতের কব্জিতে কাটার ক্ষত চিহ্ন, দুই পায়ে এসিডে পোড়ানো কলো ক্ষতের চিহ্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায়ও ক্ষতের চিহ্ন দেখা যায়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সৌদি আরবে গিয়েছিল মুক্ত। পাশ্ববর্তী হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদম ব্যবসায়ী আক্তার মিয়া সৌদি আরবে হাসপাতালের কাজে ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে ৭০ হাজার টাকায় সৌদি আরবে পাঠাতে প্রস্তাব দেন। টাকার পরিমাণ কম দেখে মুক্তার বাবা মুখলেছও রাজি হয়ে যান। কিন্তু সেখানে হাসপাতালের কাজের পরিবর্তে গৃহপরিচারিকার কাজ পায় মুক্তা।

শারিরীক নির্যাতনের শিকার মুক্তা বলেন, কফিলের বাড়ির সবাই নিয়মিত আমাকে মারতো। তারা আমার দুই পায়ের হাঁটুর নিচে এসিড দিছে অনেক বার। এসব অত্যাচারে আমি বাবাকে ফোনে বলেছিলাম, যদি জীবিত দেখতে চাও নিয়ে যাও। আমি পালাতে পারতাম। কিন্তু পালিয়ে যাব কোথায়। পাসপোর্ট মালিকের কাছে ছিল।’

মুক্তার বাবা মুখলেছ মিয়া বলেন, ছোট মেয়েটা মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে পারেনি। পরে দালালকে আরো ২০ হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে দেশে আনার ব্যবস্থা করেছিলাম।

দালালের বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আইনের আশ্রয় নিব।









Leave a reply