দারুল উলুম দেওবন্দের ওপর নিষেধাজ্ঞা চান সেই নারী

|

সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশে মুসলিম নারীদের একটি সংগঠন কর্তৃক দীপাবলির অনুষ্ঠানে আরতি পূজার আয়োজন করা এবং তাতে মুসলিম নারীরা অংশ নেয়ার ঘটনায় গত শনিবার ফতোয়া জারি করেছিল ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ।

দারুল উলুমের ফতোয়ায় বলা হয়, মুসলমানরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যের কাছে প্রার্থনা করতে পারে না, করলে মুসলমান থাকবে না।

এমন ফতোয়ার পর আরতি পূজার আয়োজক সংগঠন ‘মুসলিম মহিলা ফাউন্ডেশন’ এবার চটেছে দেওবন্দের ওপর। সংগঠনের সভাপতি নাজনীন আনসারি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ও এর অর্থায়নের সূত্র খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার নাজনীন বলেন, ‘নিজেদের মত আদেশ আকারে কারো ওপর চাপিয়ে দেয়ার অধিকার ইসলাম আলেমদেরকে দেয়নি। তারা ইসলামের আলোকে পরামর্শ বা উপদেশ দিতে পারেন মাত্র। কাউকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়া অধিকার তারা রাখেন না। যদি তারা বারবার এমনটি করতে থাকেন তাহলে আমরা ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া একটি নির্দেশনা মোতাবেক অভিযোগ দায়ের করবো।’

দেওবন্দের ফতোয়াকে ভিত্তিহীন দাবি করে নাজনীন টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, গত ১১ বছর ধরে তিনি হিন্দুদের অবতার শ্রীরামের প্রশংসা করে সংগীত গেয়ে আসছেন। নাজনীন আনসারি ২০১৪ সালে অযোধ্যায় রাম মন্দির স্থাপনের দাবি জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার উপমহাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি উদযাপিত হয়েছে। এ দিন ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসিতে ‘মুসলিম মহিলা ফাউন্ডেশন’ এর উৎসবে গিয়ে এক মুসলিম নারী আরতি পূজায় অংশ নিচ্ছেন- এমন একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এরপরই উল্লিখিত ফতোয়া জারি করে দারুল উলুম দেওবন্দ।

শনিবার নাজনীন আনসারি বলেছিলেন, হিন্দু-মুসলিম পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বারানসিতে দীপাবলি উৎসব আয়োজন করে তার সংগঠন। তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীরাম হলেন আমাদের পূর্বপুরুষ। আমরা আমাদের নাম আর ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু বা মুসলিম হতে পারি। কিন্তু নিজেদের পূর্বপুরুষকে কিভাবে বদলাবো? দেবতা শ্রীরামের নামে গান গাইলে শুধু হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যকার দূরত্বই ঘুচবে না, ইসলামের মহানুভবতাও প্রকাশ পাবে।’









Leave a reply