সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা

|

ঢাকার নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সালমান এফ রহমানের ক্যাডাররা। গতকাল রাত ১০টার দিকে স্থানীয় শামীম গেস্ট হাউজে এ হামলা চালানো হয়। এতে আহত হন অন্তত ১০ সাংবাদিক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা যে হোটেলে ছিলেন, সেটির নিচতলায় গতকাল বিকেলে সালমান এফ রহমানের নির্বাচনী ক্যাম্প বসানো হয়। সেখানেই জড়ো হয় সন্ত্রাসীরা। রাতে তারা নামে সাংবাদিক দমন মিশনে।

শেয়ারবাজার লুটের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত সালমান এফ রহমানের ক্যাডাররা ভাঙচুর করে, হোটেলের নিচে থাকা ১৬টি গাড়ি। হোটেলের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে তারা। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে প্রায় এক ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সাংবাদিকরা। ফোনে বারবার কল করেও তারা সাড়া পাননি আইনশৃঙখলা বাহিনীর।  হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন, দেশের অর্থনীতির জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে জনধিকৃত সালমান এফ রহমান। শেয়ারবাজার লুটে তার জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে, খন্দকার ইব্রাহিম খালিদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে। জানা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ থেকে সরাতে নানা কৌশল করছেন বিতর্কিত সালমান। তার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বাধা হতে পারে গণমাধ্যম। এজন্য আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে তাদেরকেই বেছে নিয়েছে ক্যাডার বাহিনী।

ভুক্তভোগী যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা জানান, ৩০ থেকে ৩৫ সশস্ত্র সন্ত্রাসী ১০টার দিকে হোটেলে হামলা চালায়। সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পুলিশের ওসিকে জানালেও কোনো ধরনের সাড়া পাননি। কেন তাদের ওপর হামলা চালানো হলো, কিছুই বুঝে ওঠতে পারেননি তারা। সাংবাদিকদের ধারণা, ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিতে পারেন গণমাধ্য়মকর্মীরা- এই ভয়ে দোহার নবাবগঞ্জকে সাংবাদিকশূন্য রাখার পাঁয়তারা করছেন সালমানের অনুসারীরা।

দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার ইয়াসিন রহমান জানান, তারা কয়েকজন চা খাওয়ার জন্য হোটেল থেকে নিচে নামছিলেন। এ সময় সিঁড়িতে হট্টগোলের শব্দ শুনতে পান। নিচে গিয়ে দেখেন রড, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রধারী মুখোশপরা সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর করছে। ভয়ে আবার দৌঁড়ে উপরে উঠে যান তারা। কেউ ছাদে, কেউ ওয়াশরুমে বা অন্য কোন অন্ধকার জায়গায় আশ্রয় নেন।

রাত ১১টার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নবাবগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম। হামলাকারীরা যে প্রার্থী বা দলের সমর্থকই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহুবার চেষ্টা করেও ওসি’র  সাড়া পাওয়া যায়নি- এ অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, হয়ত মিটিংয়ে ছিলেন তার ‘বস’।

হামলার সময় হোটেলের বাইরে ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ তুহিন। তিনি জানান,  সহকর্মীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক খবর দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। কিছুদূর এগুনোর পর জটলা দেখতে পান রাস্তায়। এর আগেও ঢাকা-১ আসনে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের যানবাহনে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

যমুনা অনলাইন: এটি









Leave a reply