গাইবান্ধার ৫টি আসনেই প্রার্থী জটে আ’লীগ-বিএনপি, নিশ্চিন্তে জাপা

|

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা
উত্তরের জেলা গাইবান্ধার সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনগুলোতে আ’লীগ ও বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। প্রার্থী চুড়ান্ত নিয়ে বড় দুটি দল বেকায়দায় থাকলেও একক প্রার্থী থাকায় অনেকটাই নিশ্চিন্তে জাতীয় পার্টি।

নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানকার পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়। তবে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হয়।

পাঁচটি সংসদীয় আসনে আ’লীগের নৌকার লড়াইয়ে দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৫১ জন সম্ভব্য প্রার্থী। পাঁচ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৩২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। প্রতিটি আসনে জাতীয় পার্টির একক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া গাইবান্ধা-৩, ৫ আসনে জাসদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দুইজন। গাইবান্ধা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন তিনজন। গাইবান্ধা-৫ আসনে সিপিবির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। প্রত্যেক আসনে প্রবীণদের সাথে মনোনয়ন যুদ্ধে নেমেছেন তরুণ ও নবীণ নেতারা। অধিকাংশ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বলে দলের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

(গাইবান্ধা-১, সুন্দরগঞ্জ)
নানা দিক থেকে আলোচিত এ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন নিয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আফরুজা বারী, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দা মাসুদা খাজা, সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফার ছেলে উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন আহবায়ক মেহেদী মোস্তফা মাসুম, যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম রঞ্জু আশরাফুল আলম লেবু।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চারজন জন। তারা হলেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ মোজহারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ও সাবেক পিপি এ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক ও জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া।

চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি এবারও দলের একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছেন।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়েছেন তিনজন। তারা হলেন, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সদস্য, স্থানীয় সমাজ সেবক এমদাদুল হক নাদিম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের অন্যতম নেতা অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ও (অব:) প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক।

গাইবান্ধা-২ (সদর) :
এ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন নিয়েছেন আট জন। বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, জেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক এ্যাড. সৈয়দ শামস-উল আলম হিরু, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক ছড়াও মনোনয়ন নিয়েছেন জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুর রহমান টুটুল, সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর জামান রিংকু ও সদর উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের কার্যানির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ্ সারোয়ার কবীর ও ব্যারিস্টার মাসুদ আকতার পলাশ।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ছয়জন। তারা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুজ্জামান খান বাবু, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার আহাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নব্বী টিটুল, সাবেক এমপি রওশন আরা ফরিদ, জেলা বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক ছানা ও সাবেক ছাত্রনেতা আতিফ মাহমুদ সাজিদ।

এ আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সাবেক এমপি ও জেলা জাপার সভাপতি আবদুর রশিদ সরকার।

গাইবান্ধা-৩, (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) :
এ আসনে বর্তমান আ’লীগের এমপি ডা. ইউনুস আলী সরকার, সংরক্ষিত নারী এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ২০ জন। তাদের মধে উল্লেখযোগ্য হলেন, পলাশবাড়ী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবু বক্কর প্রধান, সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, সাদুল্যাপুর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. শাহারিয়া খাঁন বিপ্লব, পলাশবাড়ী উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মণ্ডল, জেলা আ’লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান, জেলা আ’লীগের উপদেষ্টা সদস্য, গাইবান্ধা আইন কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম প্রধান, আ’লীগ নেতা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) মাহমুদুল হক, কৃষক নেতা আজিজার রহমান বিএসসি, আ’লীগ নেতা ডা. মাহাবুব আলম ও মহিলা আ’লীগ নেত্রী শ্যামলী আকতার।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী চারজন। তারা হলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, ঢাবি’র সাবেক ছাত্রনেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাবেক এমপি রওশন আরা ফরিদ।

জাতীয় পার্টির ঘোষিত একক প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পি ও জাসদের একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ভিপি, ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি দলের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া জামায়েত নেতা পলাশবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) :
বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক এমপি প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ দলের মনোনয়ন কিনেছেন নয়জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে অন্যতম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও মহিমাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ প্রধান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাট ও বস্ত্র বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম লিটন, উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রধাণ আতাউর রহমান বাবলু ও সহ-সভাপতি ফেরদাউস আলম রাজু।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন কিনেছেন সাতজন। তারা হলেন, সাবেক এমপি শামীম কায়সার লিংকন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক কবীর আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আলতাব হোসেন পাতা, উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি ওবায়দুল হক বাবলু।

স্বতন্ত্র হিসেবে এ আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ডা. অাব্দুর রহিম মনোনয়ন কেনার কথা রয়েছে।

জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে এ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছরন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. কাজী মো. মশিউর রহমান।

গাইবান্ধা-৫, (সাঘাটা-ফুলছড়ি) :
এ আসনে বর্তমান এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়াসহ নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েছেন। অন্যরা হলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহামুদ হাসান রিপন, ফুলছড়ি উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জিএম সেলিম পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নুরুল আমিন, সাঘাটা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ওয়ারেস আলী প্রধাণ, সাধারণ সম্পাদক শামছুল আরেফিন টিটু, মাহাবুবুর রহমান লিটল, আ’লীগের সমর্থক, কণ্ঠশিল্পী সুশিল কুমার সরকার ও বর্তমান এমপির ফজলে রাব্বীর মেয়ে এ্যাড. রিতা ।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, সাঘাটা সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম নান্নু, জেলা বিএনপির সদস্য ময়নুল ইসলাম শামীম, শিল্পপতি হাসান আলী, বিএনপি নেতা আরশাদুল কবীর রাঙ্গা, সেলিম আহমেদ তুলিপ ও নাজমুল ইসলাম নয়ন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনয়ন কিনেছেন দুইজন। তারা হলেন, ফুলছড়ি উপজেলা জাপার সভাপতি আশরাফ আলী ও সাঘাটা উপজেলা জাপার সভাপতি উপজেলার চেয়ারম্যান গোলাম শহীদ রঞ্জু। তবে গোলাম শহীদ রঞ্জুকেই দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ আগেই একক প্রার্থী ঘোষণা করেন। এ আসনে জাসদের এ্যাড. জামিল এবং সিপিবির জশেস্বর কুমার বর্মন মনোনয়ন নিয়েছেন।

এদিকে, বড় দুই দলেরই একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় নেতাকর্মীদের দৃষ্টি এখন কেন্দ্রের দিকে। চুড়ান্তভাবে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এছাড়া পাঁচ আসনের মধ্যে গাইবান্ধা-১, গাইবান্ধা-২ ও গাইবান্ধা-৩ আসনে জোটগতভাবে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ার গুঞ্জণ দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হলে পাল্টে যাবে এই তিন আসনের নির্বাচনি সমিকরণ।









Leave a reply