দুই সেঞ্চুরিতে প্রথম দিন বাংলাদেশের

|

২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে মুমিনুল-মুশফিকের তীব্র প্রতিরোধ। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই। দুর্দান্ত খেলে সেঞ্চুরি তুলে নেয়া। একের পর এক রেকর্ড ও কীর্তি। তাতে প্রথম দিনটি হয়েছে বাংলাদেশের।

শেষবেলায় আক্ষেপ হয়ে রইল শুধু মুমিনুল-তাইজুলের উইকেট। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০৩/৫। ১১১ রান নিয়ে এখনও ভরসার প্রতীক হয়ে রয়েছেন মুশফিক। ক্রিজে তার নতুন সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি রানের খাতা খুলতে পারেননি। তারা শুরু করবেন দ্বিতীয় দিনের খেলা।

সিলেটে পাননি, তবে রোববার ঢাকায় টস ভাগ্যকে পাশে পান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। তবে শুভসূচনা এনে দিতে পারেননি তারা। এখানেও সিলেট টেস্টের ভূত ভর করে তাদের কাঁধে।

সূচনাতেই কাইল জার্ভিসের বলে উইকেটের পেছনে রেজিস চাকাভাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল। ১৬ বল খেলেও ব্যক্তিগত রানের খাতায় কোনো রান যোগ করতে পারেননি এ ওপেনার। খানিক বাদেই একই বোলারের শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন।

পরে ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ মিথুন। তবে ক্রিকেটের অভিজাত সংষ্করণে অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ডোনাল্ড তিরিপানোর বলে স্লিপে ব্রেন্ডন টেইলরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

পরের গল্টটা শুধুই মুমিনুল-মুশফিকের। মাত্র ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে সূচনালগ্নেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। একে একে ফিরে যান ইমরুল, লিটন ও মিথুন। সেখান থেকে তাদের প্রতিরোধ। সেই প্রতিরোধের মুখে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি জিম্বাবুয়ে বোলাররা। ফলে প্রথম সেশনটা বাজে গেলেও দ্বিতীয় সেশনটা হয়ে দাঁড়ায় শুধুই টাইগারদের।

দুর্দান্ত খেলেন মুমিনুল-মুশফিক। ধরার বল ধরেন, মারার বল মারেন। এ সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটেই ২০৭। এ নিয়ে আট ইনিংস পর সাদা পোশাকে ২০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে টিম টাইগার। এ পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল। ৫৪.১ ওভারে সিকান্দার রাজাকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। এ নিয়ে লংগার ভার্সনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে যান পয়েট অব ডায়নামোখ্যাত এ ব্যাটসম্যান। ৮ সেঞ্চুরি নিয়ে সবার ওপরে তামিম ইকবাল।

মুমিনুলকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দেন মুশফিক। ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি তুলে ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান তিনি। ইতিমধ্যে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। টেস্ট ক্রিকেটে ঘরের মাঠে ২০০০ রানের মাইলস্টোন ছন তিনি।

শুধু একক মাইলফলকই অর্জন করেননি মুশফিক। আরেকটি কীর্তি গড়েন তিনি। মুমিনুলের সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ ১৮১ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। আগেরটি ছিল ১৮০ রানের। চলতি বছরের শুরুতে শ্রীলংকার বিপক্ষে লিটনকে সঙ্গে এ রেকর্ড গড়েন মুমিনুল।

এত কীর্তির পর সেঞ্চুরিটা প্রাপ্য ছিল মুশফিকের। অবশেষে ব্রেন্ডন মাভুতার বলে মিড অনে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেলস নিয়ে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি। চরম চাপের মধ্যে বুক চিতিয়ে লড়ে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন নির্ভরতার প্রতীক। ১৮৭ বলে ৮ চারে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি।

এ নিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে যান মুশফিক। ৬ সেঞ্চুরি নিয়ে তৃতীয় ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এ সেঞ্চুরি দিয়ে তাকে ধরে ফেলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এখানেই থেমে থাকেননি। ক্রিকেটের আদি ফরম্যাটে মুমিনুলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন তিনি। রোডেশিয়ানদের বিপক্ষে টেস্টে দেশের সেরা জুটির রেকর্ড ছিল তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের দখলে। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে দুই বাঁহাতি উদ্বোধনী জুটিতে তুলেছিলেন ২২৪ রান।

মুমিনুল-মুশফিকের ডানায় ভর করে রকেটের গতিতে ছুটছিল বাংলাদেশ। তবে শেষবেলায় হঠাৎই খেই হারান মুমিনুল হক। সময়টা ভালো যাচ্ছিল না তার। দুঃসময়ের সেই বৃত্ত ভেঙে দেড় শতাধিক রান করে ফেরেন তিনি। টেন্ডাই চাতারার বলে ব্রায়ান চারিকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পয়েট অব ডায়নামো। এদিন মূল্যবান আর কোনো উইকেট হারাতে না চাওয়ায় নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামানো হয় তাইজুল ইসলামকে। তবে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। জার্ভিসে তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন এ লোয়ারঅর্ডার ব্যাটসম্যান।

সিলেট টেস্টে বাজেভাবে হেরে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০তে পিছিয়ে বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচাতে ঢাকা টেস্টে হার এড়ালে কিংবা ড্র করলেই হবে না, জিততেই হবে টাইগারদের। ফলে ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁচামরার।

এমন সমীকরণে বাংলাদেশ একাদশে এসেছে তিন পরিবর্তন। অভিষেক হয়েছে সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও মোহাম্মদ মিথুনের। একাদশে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। গেল ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট খেলেন তিনি।

এ ত্রয়ী ঢোকায় বাদ পড়েছেন পেসার আবু জায়েদ রাহী, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত এবং বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু।









Leave a reply