‘দাবি মানাতে সরকারকে যেভাবে বাধ্য করা প্রয়োজন সেভাবেই করা হবে’

|

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষিত ৭ দফা দাবিকে গণতান্ত্রিক ও যৌক্তিক বলে অভিহিত করে জোটের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এসব দাবি মানতে সরকার বাধ্য। যদি তারা আমাদের চলমান কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি না মানে, তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে দাবি মানাতে যেভাবে বাধ্য করা প্রয়োজন সেভাবে বাধ্য করা হবে।

যমুনা টেলিভিশনের ‘রাজনীতি’ নামক টকশোতে অংশ নিয়ে মান্না এসব কথা বলেন। ‘রাজনীতিতে হুমকি-ধামকি’ শিরোনামের এই টকশোতে আলোচক হিসেবে আরও ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংবাদিক ড. রেজোওয়ান সিদ্দিকী এবং সাংবাদিক শ্যামল দত্ত।

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কাছে চিঠি পাঠানো কথা ছিল আজ। এ বিষয়ে আপডেট আছে কী? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, আজ সন্ধ্যায় চিঠিটি পৌঁছার কথা। তবে এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে কিনা সে বিষয়টি আমার জানা নেই।

চিঠিতে কী আছে? এমন প্রশ্নে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করেছি। এগুলোই আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা সরকারকে জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন এবং প্রধানমন্ত্রীকেও এই চিঠি দেয়া হবে। মূলত আমরা চাই তফসিল ঘোষণার আগে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার আমাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্যই চিঠি দেয়া।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মান্নার বক্তব্যের জবাবে বলেন, চিঠি দেয়া তাদের রাজনীতির কৌশল। মূলত ওই তথাকথিত জোটে মূলত বিএনপি জামাতের সাথে কয়েকজন লোক এক হয়েছেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সব সময় সবার সাথে কথা বলে। তবে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে নীতিগত প্রশ্নে কারো সাথে কোনো কথা বলার অবকাশ নেই। যেমন দণ্ডিত আসামির মুক্তি। এটা আওয়ামী লীগের বিষয় না, এটা আদালতের বিষয়। শেখ হাসিনার ওপর ২১ আগস্ট হামলার কারণে দণ্ডিত তাদের পলাতক চেয়ারম্যানের বিষয়ে কথা বলতে আসে তাহলে আমরা এটা নিয়ে কোনো কথা বলবো না। যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে আমরা কোনো কথা বলবো না। চিঠি কী উদ্দেশ্যে দেয়া হচ্ছে, কারা দিচ্ছে সেসব বিবেচনা করে আলোচনা হবে কিনা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ঐক্যফ্রন্ট কি সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে কিনা? প্রশ্নের জবাবে শ্যামল দত্ত বলেন, না, আমি তেমনটা মনে করিনা। ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে নির্বাচনী একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে এসেছে। এখন তারা সরকারপ্রধান ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিচ্ছে। আমি এই বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। ঐক্যফ্রন্টের পুরো কর্মসূচিগুলোই নির্বাচনকে ঘিরে চলছে। তারা যে ৭ দফা দাবি দিয়েছেন সেগুলো না মানলে নির্বাচনে যাবেন না এমনটি তারা বলছেন না। যেটা ২০১৪ সালে হয়েছিল। ফলে এই পুরো বিষয়টির মধ্যে আমি ইতিবাচক দিকই দেখি।

সাংবাদিক রেজোওয়ান সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগনের শক্তিকেও মানতে চাইছে না। সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বেশি হলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, উপস্থিতি দিয়ে জনসমর্থন বুঝা যায় না। আবার কখনও তাদের নেতারা বলেন, বিএনপির সমাবেশের চেয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে মানুষ বেশি হয়। এই ধরনের কথাবার্তায় বুঝা যায় ক্ষমতাসীনদের বক্তব্যে কোনো ধারাবাহিকতা নেই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে দাবি সরকারকে মানতে বাধ্য করা হবে বলে নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমাদের সব দাবি গণতান্ত্রিক এবং যৌক্তিক। ফলে সরকার তা মানতে বাধ্য। যদি চলমান কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে দাবি মানাতে বাধ্য করা যাবে না বলে সবাই মনে করেন, তাহলে যেটা করলে তারা বাধ্য হয় সেটাই করবো। জনগণকে সাথে নিয়েই করবো, গণতান্ত্রিকভাবেই করবো।









Leave a reply