সাংবাদিক খাশোগির নিহতের কথা স্বীকার করলো সৌদি আরব

|

নিখোঁজের ১৮ দিন পর অবশেষে সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিহতের ঘটনা স্বীকার করলো সৌদি সরকার। রিয়াদের দাবি, ইস্তাম্বুলের সৌদি কন্স্যুলেটের ভেতরে একদল লোকের সাথে মারামারিতে খুন হন খাশোগি। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানায়নি প্রশাসন।

শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর খাশোগির সাথে কার্যালয়ের কিছু মানুষের হাতাহাতি হয়। এরই এক পর্যায়ে মৃত্যু হয় খাশোগির।

সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউটরের দফতর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, খাশোগি নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ সৌদি নাগরিক গ্রেফতার হয়েছে। একই সাথে বরখাস্ত করা হয়েছে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহকারী সৌদ আল কাহতানি এবং গোয়ান্দা বিভাগের উপ প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ আল আসিরিকে। একই সাথে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান। পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করবেন যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান।

এদিকে খাশোগি ইস্যুতে ১৮ জনকে গ্রেফতারের খবরে সন্তোষ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একে ইতিবাচক প্রথম পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। খাশোগির ব্যাপারে সৌদি সরকারের যে ভাষ্য তা বিশ্বাসযোগ্য কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “অবশ্যই”।

এতোদিন ধরে সাংবাদিক খাশোগি হত্যার বিষয়টা অস্বীকার করে আসছিলো সৌদি সরকার। রিয়াদের দাবি ছিলো, নিখোঁজ হবার আগে কনস্যুলেট ভবন ত্যাগ করেছিলো খাশোগি। তবে তুরস্কের গণমাধ্যমগুলো বলে আসছিলো, রিয়াদ থেকে আসা ১৫ সদস্যের একটি ঘাতক দল নির্যাতনের পর কনস্যুলেট ভবনের ভেতরেই হত্যা করেছে খাশোগিকে। গত দুই সপ্তাহে তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে কিছু তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে, যা ইঙ্গিত সেই দাবিকে সমর্থন করে।

খাশোগি যে আর বেঁচে নেই, সৌদি সরকার তা স্বীকার করলেও, তার মরদেহের কী হয়েছে তা এখনও অজানা। তুরস্কের গোয়েন্দা সূত্রগুলো এর আগে আভাস দিয়েছিলো, হত্যার পর তাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে। শুক্রবার কনস্যুলেটের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, মরদেহের হদিস জানতে। ইস্তাম্বুলের কাছে বেলগ্রাড জঙ্গলে কোথায় ফেলে আসা হয়েছে খাশোগির মরদেহ, এমন ধারণার ভিত্তিতে সেখানে শুরু হয়েছে তল্লাশি।

গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশোগি। বাগদত্তা হ্যাটিস সেঙ্গিজের সাথে বিবাহের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর আর তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।









Leave a reply