যমুনায় শুরু হলো নতুন টকশো ‘রাজনীতি’

|

রাজনীতিতে বইছে এক ধরনের দমকা হাওয়া। নির্বাচন, ঐক্য, গণতন্ত্র, সংকট, অনিশ্চয়তা ইত্যাদি নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা ও নানা উদ্যোগের মধ্যেই শুরু হলো অক্টোবর মাস। অনেকের ধারণা, এই মাসেই ঠিক হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের নানা দিক। কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচনটি? সবার অংশগ্রহণমূলক হবে? নাকি কেউ বাদ পড়বে এবার? এসব জল্পনা কল্পনার মধ্যে যমুনা টেলিভিশনে শুরু হলো নতুন টকশো ‘রাজনীতি’।

রোখসানা আঞ্জুমান নিকোলের উপস্থাপনায় এই শোতে অংশ নেবে দেশের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা। রবি থেকে বৃহস্পতি সপ্তাহে ৫ দিন সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ১ ঘণ্টার এই শো।

‘অক্টোবর পলিটিক্স’ নামে আজ সোমবার প্রথম পর্বে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্য’র আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক।

নির্বাচন নিয়ে সরকারের ভাবনা ও প্রস্তুতি বিষয়ে উপস্থাপকের প্রশ্নে জবাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ‘সামনের নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জনগণের আশা আকঙ্খা পূরণ করতে পারবেন তাদেরকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হবে। আজ সকালে যখন প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে ফিরলেন তখন আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা জানিয়েছি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে পথনির্দেশনামূলক কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন নির্বাচন নিয়ে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। যে প্রার্থী জনগণের কাছে আবেদন তৈরি করতে পারবেন তারাই মনোনয়ন পাবেন।’

এইচ টি ইমাম বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীকে যে সম্মান জানানো হয়েছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে তাতেই স্পষ্ট যে বিশ্বের দরবারে তিনি বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের মানুষকে কোন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এজন্য আমরা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রীর এইযে অর্জন তার কৃতিত্ব তিনি দেন মূলত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে এবং বাংলার জনগণকে। বাংলার জনগণ তাকে দায়িত্ব দিয়েছে বলেই তিনি এই অর্জন করতে পেরেছেন। জনগণের আস্থা আছে বলেই তিনি কাজ করতে পেরেছেন।

‘বিএনপি এলে সরকারের একরকম পরিকল্পনা, আর না এলে অন্যরকম পরিকল্পনা’ সরকার এমন নীতি নিয়ে এগোচ্ছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটির উত্তর আমি এখনই দেবো না।

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যোগ দেবে কিনা সেটি তাদের ব্যাপার। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি কেমন সন্ত্রাস করেছে তা দেশবাসী দেখেছে। সামনের নির্বাচনে তারা এমন কিছু করতে চাইলে জনগণ তা অবশ্যই প্রতিরোধ করবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে তা জনগণ বুঝতে পারেন। সরকার চায় বিএনপি যেন নির্বাচনে না আসে। এতে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন করে মানুষকে ভোটকেন্দ্ যেতে না দিয়েই আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে যায় তাহলে সেটা হবে খুলনা, বরিশাল ইত্যাদি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মতো কারচুপির নির্বাচন।

‘সরকার যদি বিএনপির দাবি পূরণ না করে তাহলে কি নির্বাচনে অংশ নেবেন না?’ এই প্রশ্নের জবাবে হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা গতকালের সমাবেশে আমাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেছি। এর মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন ইত্যাদি। যদি এসব দাবি মানা না হয় তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব কিনা তা ভেবে দেখবো।

জবাবে হাফিজউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সরকার বহু আগে থেকে জনগণের টাকায় নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে আসছে। এখনও প্রতিদিন তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি এ ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে না।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে সরকারের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অদ্ভুত কথা। আমাদেরকে দুর্নীতিবাজ বলা হচ্ছে। অথচ আমাদের প্রধান দুই নেতাসহ অন্য কারো বিরুদ্ধে কখনো কোনো দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। আমার ধারণা, সরকারের বিরুদ্ধে একটা ঐক্য গড়ে ওঠছে দেখে এবং এর প্রতি জনগণের সমর্থন দেখে ক্ষমতাসীনরা ব্যালেন্স হারিয়ে নানা প্রপাগান্ডা চালানোসহ এসব কথা বলছেন।

শাহদীন মালিক বলেন, নির্বাচনী সরকার নিয়ে সংবিধানে কিছু বলা নেই। আগামী নির্বাচন নিয়ে আসলে কী হতে যাচ্ছে তা বলা মুশকিল। কিন্তু আমরা আশা করবো দেশের স্বার্থে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দেবে। এবং এর মাধ্যমে জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে তেমন একটা নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এমন সম্ভাবনায় সরকারের মধ্যে অস্তস্তি তৈরি হয়েছে। ‘বিজয়ীরা সব নিয়ে যাবে’। আমাদের দেশের রাজনীতিতে এই মানসিকতাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিরোধী দল হচ্ছে সরকারের অংশ। আমাদের এখানে তা নেই। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।









Leave a reply