আজাদ কাশ্মিরের সরকার প্রধানকে লক্ষ্য করে ভারতের গুলি

|

কাশ্মির ইস্যুতে আবার উত্তেজনার পারদ চড়া পাক-ভারত সম্পর্কে। এবার আজাদ কাশ্মিরের সরকার প্রধান ফারুক হায়দারকে বহনকারী হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ভারতীয় সামরিক বাহিনী। দিল্লির দাবি, হেলিক্প্টারটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে তা ঠেকাতেই গুলি চালানো হয়। ভবিষ্যতে আরও কড়া জবাব দেয়ারও হুঁশিয়ারি ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তবে আজাদ কাশ্মির প্রশাসন বলছে, আগ্রাসন চালাতেই গুলি করা হয়েছে ফারুক হায়দারকে বহনকারী বেসামরিক হেলিকপ্টারটিতে। এমনকি সীমান্তের জিরো লাইনও পার করেনি সেটি।

রোববার দুপুরে, ভারী মেশিনগানের গুলির আওয়াজে হঠাতই প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুঞ্চ সেক্টর। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে সবচেয়ে সংঘাত প্রবণ এলাকার আকাশসীমায় থাকা একটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে চালানো হয় গুলি। মুহুর্মুহু আক্রমনের মুখে হেলিকপ্টারটি ঢুকে পড়ে পাকিস্তান সীমান্তে।

বেসামরিক বিমানটিতে তখন অবস্থান করছিলেন আজাদ কাশ্মিরের সরকার প্রধান রাজা ফারুক হায়দার। ছিলেন আরও দুই মন্ত্রী। ভারতের দাবি আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অন্তত আড়াইশ মিটার ভেতরে অনুপ্রবেশ করে হেলিক্প্টারটি। ভবিষ্যতে আরও কড়া জবাবেরও হুঁশিয়ারি দিল্লির।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, পাকিস্তান যতবারই আন্তর্জাতিক আইন এবং সীমান্ত নীতি লঙ্ঘন করবে ততবারই আমরা জবাব দেবো। এবং প্রতিটি জবাব আগের চেয়ে কঠিন হবে। স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

তবে পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল আজাদ কাশ্মিরের সরকার প্রধানের অভিযোগ, তাকে হত্যা করতেই চালানো হয়েছে এই হামলা। বেসামরিক হেলিকপ্টারটি আকাশ সীমা অতিক্রম করেনি বলেও দাবী তার।

রাজা ফারুক হায়দার বলেন, নিহতদের দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে আমি সফর করছিলাম। সাথে আরও দু’জন মন্ত্রী ছিলেন। যে হেলিকপ্টারটি আমাদের বহন করছিলো সেটি কোনো গানশিপ বা সামরিক উড়োজাহাজ ছিলো না। বেসরকারি সংস্থা থেকে ভাড়া করা বেসামরিক হেলিক্প্টার ছিলো। আর জিরো পয়েন্ট থেকেও অনেক দূরে ছিলাম। কিন্তু তবুও আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ভারত। এর উদ্দেশ্য একটাই, আমাকে হত্যা করা। এই পরিস্থিতিতে কথার লড়াই আর পাল্টাপাল্টি দোষারোপে ফের উত্তপ্ত, দিল্লি-ইসলামাবাদ সম্পর্ক।

ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) পি কে সেহগাল বলেন, কাশ্মিরে সব সময়ই যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান। সেই পরিস্থিতিতে যদি শত্রুপক্ষের কোনো হেলিকপ্টারে এল ও সি পার হয়ে আসে তবে সেটিকে প্রতিরোধ করাই নিয়ম। ভারতীয় সামরিক বাহিনী কোনো ক্ষেপণানস্ত্র ব্যবহার করেনি বা হেলকপ্টারটিকে বিধ্বস্ত করেনি। এটাই অনেক বেশি।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ফারুক হামিদ বলেন, যে হেলিকপ্টারে বিএসএফ গুলি চালিয়েছে সেটি বেসামরিক। আর সেটি জিরো পয়েন্ট অতিক্রমও করেনি। তাই এটি প্রতিরোধ নয় বরং আগ্রাসন। পাকিস্তান যেনো বড় ধরণের কোনো হামলা চালায়, সে উস্কানি দিচ্ছে ভারত।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির সীমান্তে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অস্ত্রবিরতি চুক্তি হলেও, তা ভঙ্গের ঘটনা অনেকটাই নিয়মিত। গেল বছর এল ও সি পার হয়ে সেনা অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘাতে জড়ায় পাকিস্তান ও ভারতীয় সামরিক বাহিনী।









Leave a reply