গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

|

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা, যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় নতুন করে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে আমন ক্ষেত, বীজতলাসহ প্রায় ১২০০ হেক্টর জমিরর বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এছাড়া সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি উপজেলার প্রায় দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার কঞ্চিপাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ টিআর বাঁধের প্রায় ২০ মিটার ধসে গেছে। এতে আশেপাশের কয়েক গ্রামের আমন ফসল, বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

অপরদিকে পানি বাড়ার সাথে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২ শতাধিক বসতবাড়ি, আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়ার চরে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আংশিক নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এটিএম মোনায়েম হোসেন জানান, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নদ-নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এছাড়া পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের কারণে ভাঙন এলাকায় জরুরী পদক্ষেপসহ সার্বক্ষণিক নজরদারির রাখা হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান, বন্যায় কিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা ও নদী ভাঙনের কবল থেকে মানুষের জানমাল রক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছ। তাছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত তাদের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রুহুল আমীন বলেন, বন্যার পানিতে চার উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের আমন ক্ষেত, বীজতলাসহ প্রায় ১২শ’ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে গেছে। দ্রুত পানি কমলে এসব ফসলের কোন ক্ষতি হবেনা। তবে পানি বাড়লে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।









Leave a reply