হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের একাল-সেকাল

|

রাজধানী ঢাকায় আবারো ফিরছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিলাসবহুল হোটেলটির নতুন যাত্রার উদ্বোধন করেছেন।

১৯৬৬ সালে স্থপতি উইলিয়াম বি. ট্যাবলারের নকশায় যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল। তখন এর নাম ছিলো ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ডাকা’। হোটেলটি এই অঞ্চলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার স্বাক্ষী।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কাল রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতার ছবি ধারণ করেছিলেন বিবিসি’র সাংবাদিক মার্ক টালি, সাইমন ড্রিংসহ অনেক সাংবাদিক। তাঁরা সবাই এই হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালেই ছিলেন। সারাদেশে যখন পাক বাহিনীর তাণ্ডব চলছিলো তখন রেড ক্রস এই হোটেলকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছিলো।

১৯৮৩ সালে শেরাটন কোম্পানির কাছে হোটেলটি বিক্রি করে দেয় ইন্টারকন্টিনেন্টাল। তখন থেকেই এটি পরিচিতি পায় শেরাটন হোটেল নামে। ২০১১ সালে শেরাটন তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে হোটেলটি সরকারের তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেয়। এরপর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হোটেলটি ‘রূপসী বাংলা’ নামে পরিচালিত হয়।

২০১৩ সালে পুনরায় ফিরে আসার ঘোষণা দেয় ইন্টারকন্টিনেন্টাল। ৩০ বছরের চুক্তি করে হোটেলটির মালিক কোম্পানি ‘বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড কন্টিনেন্টাল এশিয়া প্যাসিফিক প্রাইভেট লিমিটেডের’ সঙ্গে। ২০১৪ সালে রূপসী বাংলা বন্ধ করে দেয়া হয়। শুরু হয় সংস্কার কাজ।

২০১৬ সালে এটি চালু করার কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে হোটেলটি ২০১৮ সালে উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়া হয়। সংস্কার কাজে খরচ হয় ৬২০ কোটি টাকা।

নতুন সাজে সজ্জিত এই হোটেলটিতে কক্ষের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। রূপসী বাংলার কক্ষ ছিলো ২৭১টি। বর্তমানে ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২৩১টি। প্রতিটি কক্ষের আয়তন ২৬ থেকে ৪০ বর্গমিটার। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধাও।

সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেলের বলরুম ও উইন্টার গার্ডেনকে এক করে দেয়া হয়েছে। সরে গেছে দৃষ্টিনন্দন হোটেলটির মূল ফটকের স্থানও।

যমুনা অনলাইন:এফএম









Leave a reply