শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থা, দীর্ঘ যানজট

|

প্রদ্যুৎ কুমার সরকার, মাদারীপুর
পদ্মায় পানি কমতে থাকায় নাব্যতা সংকটে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচলে আবারো অচলাবস্থার কারণে ঘাটে দীর্ঘ যানজট দেখা দিয়েছে। দফায় দফায় বন্ধ থাকছে ফেরি।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে একটি রো রো ফেরি ডুবোচরে আটকে গেলে প্রায় ১১ ঘন্টা পর উদ্ধার হয়। এরপর থেকে এ রুটের ২টি রো রো ফেরি , ১টি কেটাইপ ফেরি ও ১টি ডাম্ব ফেরি বন্ধ ছিল। শনিবার দিনের বেলা কয়েকটি ফেরি চলাচল করলেও রাতে ডাম্ব ও রো রো ফেরিসহ ১০টি ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ পড়তে হচ্ছে।

এদিকে লঞ্চ ও স্পীডবোটে যাত্রীদের চাপ বেশি রয়েছে। কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, নাব্যতা সংকটের কারণে চলতি বছরের ১৬ জুলাই থেকে লৌহজং টার্নিং এর পাশাপাশি বিকল্প চ্যানেল চালু হয়। কিন্তু গত ৭ আগষ্ট ডুবোচরে ধাক্কা লেগে ডাম্ব ফেরি রানীক্ষেতের তলা ফেটে ডোবার উপক্রম হওয়ার পর নতুন চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যায়। লৌহজং টার্নিং হয়েই ফেরিগুলো প্রায় ১ কিলোমিটার ওয়ানওয়ে পদ্ধতিতে চলছে। শুক্রবার রাত থেকে পদ্মায় পানি কমতে শুরু করায় নাব্যতা সংকট বাড়তে থাকে। তবে ৭টি ড্রেজার লৌহজং টার্নিংএ ড্রেজিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝ নদীতে বিআইডব্লিউটিএর শীর্ষ কর্মকর্তারা অবস্থান নিয়ে চেষ্টা চালালেও উজান থেকে বয়ে আসা বিপুল পরিমান পলির কারণে ড্রেজিং ব্যাহত হওয়ায় আশানারুপ ফল আসছে না। লৌহজং টার্নিং এর দীর্ঘ নৌপথ ওয়ান ওয়ে হয়ে পড়েছে।

এদিকে শনিবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুট হয়ে ঢাকাসহ কর্মস্থলমুখো যাত্রী ও পরিবহনের ভীড় বাড়তে শুরু করেছে। আগের দিনের নৈশকোচ,পণ্যবাহী যানবাহনসহ ৩ শতাধিক যানবাহন আটকে পড়েছে ঘাটে।
বাগেরহাটের বাস চালক ইব্রাহিম মিয়া বলেন,শুক্রবার রাত ৮ টায় এসেছি। এখন শনিবার রাত হয়ে গেলেও ফেরিতে উঠতে পারছি না। অনেক যাত্রীই অন্যভাবে চলে গেছে।


খালেদা বেগম নামের এক যাত্রী বলেন, ঈদ শেষে পরিবার নিয়ে খুলনা থেকে সকাল ৮টায় এসেছি ঘাটে। ফেরিতে শুধু ভিআইপি দের প্রাধান্য। আমরা অবহেলিত। তাই শত শত যাত্রী বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তিতে আছি।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আঃ সালাম বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে কয়েকটি ফেরি বন্ধ রয়েছে তাই সমস্যা হচ্ছে। তাই কিছু যানবাহন আটকে পড়েছে। যে ফেরিগুলো চলছে আমরা তাতে যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করছি। আশা করি শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।









Leave a reply