উগান্ডার স্বৈরশাসকের বুকে কাঁপুনি ধরিয়েছেন যে যুবক

|

উগান্ডায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলছে প্রেসিডেন্ট য়ুয়েরি মুসেভিনির স্বৈরাশাসন। কখনো তেমন হুমকির মুখে পড়তে হয়নি ৭৪ বছর বয়সী এই শাসককে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এক যুবক নাড়িয়ে দিয়েছেন তার সিংহাসন। ববি ওয়াইন নামে ৩৬ বছর বয়সী এই সাবেক পপস্টারই হলেন সেই যুবক।

গায়ক থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করার এক বছরের ব্যবধানে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছে ওঠেছেন তিনি। আর এতেই বেঁধেছে যত ঝামেলা। ববিকে নিকট ভবিষ্যতে নিজের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে মুসেভিনি। তাই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে কারাগারে পুরেছেন কয়েক দিন আগে।

আর এতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উগান্ডার রাজনীতি। গত কয়েক দিনে রাজাধানী কামপালায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

কাম্পালার একটি বস্তি এলাকার নাম হচ্ছে কামোকিয়া। ওখানেই বড় হয়েছেন ববি। ছোটবেলা থেকে গান করে এক পর্যায়ে জাতীয় পর্যায়েও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন গায়ক হিসেবে। মানুষের দৈনন্দিন নানা ইস্যু নিয়ে গান লেখেও সুর করেন ববি।

এছাড়া তার স্ত্রীকে নিয়ে নানা সামাজিক কার্যক্রম করে চলেছেন সমানে। বিশেষ করে শিক্ষা এবং স্যানিটেশন সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রজেক্ট চালাচ্ছেন তারা। গানের মধ্যে তিনি মানুষকে শেখানোর ব্রত নিয়েছেন।

এজন্য নিজের গানকে ‘এডুটেইনমেন্ট’ হিসেবে দেখেন। অর্থাৎ গানের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে চান এবং ঘটাচ্ছেন। ২০১৭ সালের জুন মাসে একটি এমপি আসনে উপনির্বাচনে দাঁড়ালে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বী করে জিতে যান ববি। এর মাধ্যমেই মূলত রাজনীতিতে প্রবেশ। কিন্তু মাত্র বছর খানেকের মধ্যেই জনপ্রিয় নেতা হয়ে গেছেন এই গায়ক।

এরপর অন্যান্য বিরোধী কয়েকজন নেতার সমাবেশে গিয়ে সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সাহসী কথা বলে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে থাকেন। আগস্ট মাসের শুরুতে হঠাৎ করেই ববি এবং আরও ৫ জন বিরোধী এমপিকে গ্রেফতার করে মুসেভিনি সরকার।

আগে এমন গ্রেফতারে রাজনীতিতে তেমন প্রভাব পড়েনি কখনো। কিন্তু এবার পুরো ভিন্ন চিত্র। ববির মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামে হাজারো মানুষ, যাদের বেশিরভাগই তরুণ-ছাত্রছাত্রী।

গত সপ্তাহে রাজধানীতে বেশ কয়েক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষ হয়ে পুলিশ ও সেনাদের। ঘটনার সংবাদ পরিবেশনের সময় বহু সাংবাদিককে মারধর করে সেনারা। আপাতত বিক্ষোভ কিছুটা দমন হলেও ক্ষুভে ফুঁসছেন উগান্ডাবাসী।

ববির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। জেলে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে প্রিয় নেতা যখন জেলে যখন যে যার মতো প্রতিবাদ করছে সরকারের। ববি বড় শিল্পী হলেও এখনও তার স্টুডিওটি রয়েছে সেই কামোকিয়া বস্তিতেই, যেখানে বড় হয়েছে তিনি। সেই বস্তির পাশে এক দোকানে গিয়ে দেখা গেলো দোকানদার ছেলেটি বাইরে স্পিকার লাগিয়ে ববির গান বাজাচ্ছে।

জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর ছিল, ‘তিনি জেলে আছেন, তাই আমরা তার গান বাজাই।’ উগান্ডার তরুণদের অনেকে এখন ববিকেই তাদের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে দেখছেন। দোকানদার কিবিরিজে বলেন, ‘আমরা তাকে চাই কারণ তিনি আমাদের কথা বলেন। আমরা তাকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাই।’

মুসেভিনিও তা বুঝতে পেরেছেন। তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো পর্যায়ে যাওয়ার আগেই ববিকে শেষ করে দিতে চান তিনি।

(বিবিসি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম অবলম্বনে)









Leave a reply