চূড়ান্ত নাটকীয়তার আইপিএল ফাইনালে গুজরাটকে হারিয়ে ৫ম শিরোপা ঘরে তুললো ধোনির চেন্নাই

|

চূড়ান্ত নাটকীয়তায় পূর্ণ এক ফাইনাল দেখলো ক্রিকেটভক্তরা। দারুণ এক প্রথম ইনিংসের শেষে বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে শুরু করে ম্যাচের শেষ ওভার পর্যন্ত ছিল চরম উত্তেজনার ছটা। যদিও বৃষ্টির পর ১৫ ওভারে ১৭১ রান তাড়া করতে নামা চেন্নাই সুপার কিংসই শেষ হাসি হেসেছে। শ্বাসরুদ্ধকর এ ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পঞ্চম আইপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে ধোনির দল।

শেষ ওভারে চেন্নাই সুপার কিংসের জয় পেতে দরকার ছিল ১৩ রান। এ ওভারের প্রথম তিন বলই ইয়র্কার লেন্থে করেন মোহিত শর্মা। এই তিন বলে তিনি দিয়েছিলেন মাত্র দুই রান। তখনও ম্যাচের ইকুয়েশন অনিশ্চিত। যে কেউ জিতে যেতে পারতো। ওভারের শেষ দুই বলে চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ১০ রান। স্ট্রাইক এন্ডে ছিলে বহুল পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রবীন্দ্র জাদেজা। ওভারের চতুর্থ বলে ছয় হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চেন্নাইকে এনে দেন জাদেজা। শেষ বলে দরকার ছিল ৪ রান। মোহিত ছোড়েন ফুলটস, ব্যাকওয়ার্ড লেগে বলটিকে ঠেলে দিয়েই দৌড় দিলেন জাদেজা। ম্যাচের ফলাফল ততক্ষণে নির্ধারিত গেছে।

এর আগে, খুনে মেজাজি ব্যাটিংয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ তৈরি করে চেন্নাই! বৃষ্টির পর চেন্নাইয়ের ব্যাটাররা প্রায় প্রত্যেকেই ব্যাট করেছেন ১৬০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে। তবে হুট করেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন গুজরাটের আফগান স্পিনার নুর আহমদ। তার ওভারে রুতুরাজ গাইকোয়াড় ও ডেভন কনওয়ে আউট হলে বেশ খানিকটা বিপদেই পড়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তবে সে ধাক্কা সামাল দেন আজিংকা রাহানে ও শিভাম দুবে।

নাটকীয়তার বাকিটা অনেকটা যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন রাইডু। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে তিন ওভারে চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ৩৭ রান। সে সময় বোলিং করতে আসেন মোহিত শর্মা। তার প্রথম তিন বলে গুজরাট ফ্যানদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দুই ছয় ও এক চারে চেন্নাইকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন রাইডু। তবে চতুর্থ বলেই আউট হন তিনি। পরের বলেই সমস্ত চেন্নাই ভক্তকে স্তব্ধ করে ১ বলে শূন্য রানে আউট হয়ে যান অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। আবারও জমে ওঠে ম্যাচ।

কিন্তু দুবে ও রবীন্দ্র জাদেজা তখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন চেন্নাইয়ের জয়ের সুযোগ। ১৪তম ওভারে মোহাম্মদ শামি ৮ রান দেয়ায় শেষ ওভারে জয়ের জন্য চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ১৩ রান।

গুজরাটের হয়ে শেষ ওভারে বোলিং করেন মোহিত শর্মা। দুবে ও জাদেজাকে প্রথম ৪ বল পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি না দিলেও পঞ্চম বলে তাকে ছক্কা মেরে বাউন্ডারি চেনান জাদেজা। কিন্তু তখনও শেষ হয়নি ম্যাচ। শেষ বলে লক্ষ্য নেমে আসে মাত্র ৪ রানে। মোহিতের শেষ বলটি জাদেজার প্যাডে ছিল, ব্যাটে খেলে লেগে ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি মেরে জয়ের উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন জাদেজা। ৫ম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস!

এর আগে, প্রথম চার ব্যাটসম্যানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চেন্নাইকে ২১৫ রানের টার্গেট দেয় গুজরাট টাইটান্স। ৭ম ওভারে শুবমান গিল আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত ওপেনিং জুটিতেই ৬৭ রান পায় গুজরাট। ৭ম ওভারের শেষ বলে বলকে টার্ন করিয়ে গিলকে পরাস্ত করেন জাদেজা। তার ফুল লেন্থ ডেলিভারি তাড়া করতে গিয়ে ক্রিজ থেকে সামান্য কিছুটা বেরিয়ে গিয়েছিলেন এবারে আইপিএলে ৩ সেঞ্চুরি করা গিল। আর ধোনির জন্য সেটা ছিল যথেষ্টর বেশি সময়। অনায়েসে স্ট্যাম্প ভেঙে শুবমান গিলকে সাজঘরের পথ দেখান এমএসডি।

এদিন, প্রথমে ব্যাট করে আইপিএল ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়ে হার্দিক পান্ডিয়ার দল। তবে অপ্রাপ্তি বলতে কেবল সাই সুদর্শনের সেঞ্চুরি বঞ্চিত হওয়া। ১৯.৩ ওভারে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতেই মাথিশা পাথিরানার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাই। তবে তার আগেই যথেষ্ট ধংসযজ্ঞ চালিয়ে যান এ বাঁহাতি। বলা যায়, আইপিএলের এবারের আসরের অন্যতম সেরা ডেথ ওভার বোলার পাথিরানাকে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে এনেছেন সাই। পাথিরানার ১৪ বল মোকাবেলা করে ৩৪ রান করে ডেথ ওভারেও বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করেন এই বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটার।

২য় উইকেট জুটিতেও বড় সংগ্রহের ভিত গড়েন গুজরাটের ব্যাটাররা। সাইকে সাথে নিয়ে ৪২ বলে ৬৪ রান করেন ঋদ্ধিমান সাহা। দীপক চাহারের বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত ৩৯ বলে সাহা করেন ৫৪ রান।

এরপর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন সাই। ৩য় উইকেট জুটিতে ৩৩ বলে ৮১ রান তুলে দলের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করেন সুদর্শন আর হার্দিক পান্ডিয়া। ৬টি ছক্কা আর ৮টি চারের মারে ৪৭ বলে ৯৬ রান করেন সাই সুদর্শন; যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান।

/এসএইচ


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply