রাজধানীতে যুবকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বাড়ির ছাদে গরুর খামার

|

পশুর হাটে ছোট আকারের গরু পেতে ভোগান্তি হয় এমন ক্ষোভ থেকে খোদ রাজধানীর খিলগাওয়ে বাড়ির ছাদে বাড়ির ছাদে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন এক যুবক। দুইটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই খামারে গরুর সংখ্যা এখন ৪০টি। কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে গরু বিক্রিও শুরু করেছেন খামারি।

কোরবানীর হাটে বড়ো আকারের গরু পছন্দ হলেও পাইকাররা দাম হাঁকান বেশি। মাঝারি ও ছোট গরুর ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৯ থেকে বাড়ির ছাদেই গরু পালন শুরু করেন কাজী মশিউর রহমান মারুফ। লক্ষ্য রাজধানীবাসির জন্য ছোট এবং মাঝারি আকারের গরু সরবরাহ করা।

খামারের দ্বিতীয় বছরে তৈরি করেন ১৮ বাই ৩৬ ফিটের শেড। দু’টি থেকে গরুর সংখ্যা বেড়ে হয় ত্রিশটি। ফেসবুকে প্রচারের মাধ্যমে দ্বিতীয় বছরই বিক্রী হয় ইভোক এগ্রোর সব গরু। এরপর অ্যাপারেল ম্যান্যুফেকচারিং-এ স্নাতক, কাজী মারুফকে দ্বিতীয় বছর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছোট এবং মাঝারি গরু নিয়েই আসন্ন কোরবানীর ঈদের মৌসুম ধরতেও প্রস্তুত তিনি।

এ বিষয়ে ইভোক এগ্রোর স্বত্বাধিকারী কাজী মশিউর রহমান মারুফ বলেন, বাসার ছাদের এক পাশে বাগান, আরেক পাশে ফাঁকা ছিল। তাই কিছু পালন করার ইচ্ছে ছিল। সেখান থেকেই শুরু।

তিনি বলেন, ছোট থেকেই আমার ফার্মিং এর প্রতি এক রকম আগ্রহ ছিল। তাই পরিবার থেকে আপত্তি করেনি কেউ। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গরু আগে কোরবানি দিতে গেলে ৪০-৪৫ হাজার টকায় পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা কিনতে গেলে ৭০-৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।

আরও বলেন, প্রায় ৫টি গরু ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। ছাদের ওপরে হওয়ার কারণে অনেকেই একবারে জন্য হলেও দেখতে আসেন। এটি বেশ ভালো লাগে। বড় আকারের বাড়ির ছাদ গুলোতে গরু পালন করতে পারলে শুধু কোরবানী নয়, বরং অন্যান্য সময়েও ক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলে জানান তিনি।

খামারের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ নয়,বরং উৎসাহ পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন এই ছাদ খামারী।

এটিএম/


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply