স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার পর স্ত্রীর আত্মহত্যা

|

রাজধানীর যাত্রবাড়ীর গোলাপবাগে একটি বাসা থেকে জ্যোৎস্না (৩০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তার স্বামী স্বপন মিয়াকে (৪০) গুরুতর আহত অবস্থায় ও তাদের ২ সন্তানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গোলাপবাগ ২৮ নং ডিসি অফিসের পিছনের একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে।

মৃত জ্যোৎস্নার চাচাতো ভাই আবদুল করিম জানান, সাড়ে ১২ টার দিকে সংবাদ পেয়ে ৫তলার ওই বাসায় গিয়ে এক রুমে স্বপনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পাশের রুমে দেখতে পাই জ্যোৎস্নাকে। আর ছেলে সাজিদ হোসেন ইপ্তি (১৪) ও মেয়ে সানজিদা আক্তার জোহাকে (৭) অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই।

পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জ্যোৎস্নাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর ইপ্তি ও জোহাকেও হাসপাতালে আনার পর পাকস্থলী পরিষ্কার (স্টোমাক ওয়াশ) করে শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বজনরা শিশু দুটির বরাত দিয়ে জানান, মা জ্যোৎস্না তাদেরকে পান খাওয়ায়। এর পরপরই তারা ঘুমিয়ে পড়ে। পরে আর কিছুই দেখিনি তারা।

স্বামী স্বপন মিয়া আরেকটি বিয়ে করেছে, এমন সন্দেহ নিয়ে কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ লেগেই ছিলো তাদের মধ্যে বলে জানান স্বজনরা।

ঢামেক হাসপাতাল নাক কান গলা বিভাগের দায়িত্বরত এক চিকিৎসক জানান, স্বপনের ঘাড়ে ৩টি, গলার নিচে ১টি ও বাম হাতে ১ টি ধারালো অস্ত্রের গভীর অাঘাত রয়েছে। তার অবস্থা অাশঙ্কাজনক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অাঘাতের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, সে নিজে এটি করতে পারেনি, অন্যকেউ তাকে অাঘাত করেছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ অালী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেড়েই স্ত্রী জ্যোৎস্না সন্তান ২টিকে অচেতন করে স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। পরে তিনি নিজে পাশের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মর্গে রাখা হয়েছে। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ৯ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে ইপ্তি। আর জোহা স্থানীয় একটি স্কুলের ২য় শ্রেণিতে পড়ে। বেইলি রোডে ইনফিনিটি মেঘা শপের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন স্বপন। আর জ্যোৎস্না গৃহবধূ ছিলো।









Leave a reply