সপ্তাহব্যাপী অস্থিরতার পর খানিকটা স্বাভাবিক তুরস্কের অর্থবাজার

|

সপ্তাহব্যাপী অস্থিরতার পর খানিকটা স্বাভাবিক হয়েছে তুরস্কের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার। ডলারের বিপরীতে তুর্কি মুদ্রার মূল্যমান এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয় লিরায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টানাপোড়েনে অর্থনীতিতে বিপর্যয় সামাল দিতে প্রতিবেশীদেরও পাশে পাচ্ছে আঙ্কারা। এরই মধ্যে তুরস্কে দেড় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কাতার। এদিকে, চলমান সংকটের জন্য আঙ্কারাকেই দায়ী করছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আর শুল্ক আরোপে এখনও টালমাটাল তুরস্কের অর্থনীতি। ইউরোপীয় মিত্রদের সহযোগিতার আশ্বাসে, মঙ্গলবার কিছুটা স্থিতিশীল হয় দেশটির মুদ্রা ও পুঁজিবাজার। তারল্য সংকটে ধুম পড়েছে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির।

ইস্তাম্বুলের স্বর্ণ দোকান মালিক আতিল্লা বাকাঙ্গিল বলেন, এতো দ্রুত স্বর্ণালঙ্কারের দাম বেড়ে চলেছে, যা অকল্পনীয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে সোনাদানা বিক্রির ধুম পড়েছে। এমন প্রবণতা সহজেই নৈতিক অবক্ষয় তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্কের বার্ষিক বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দু’হাজার কোটি ডলার। দু’দেশের দ্বন্দ্বে গেল এক সপ্তাহে তুরস্কের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাশে দাঁড়াচ্ছে মিত্র দেশগুলো। বুধবারই তুরস্কে দেড় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন কাতারের আমির শেখ আল-থানি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাল, কয়লা, তামাক, অ্যালকোহল, প্রসাধনী, যানবাহন, আর ইলেক্ট্রনিক পণ্য আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। আঙ্কারার এমন অবস্থানে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তুর্কি পণ্যে শুল্ক বসিয়েছে। এর জবাবে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আঙ্কারা যা করছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তুরস্কে অর্থনৈতিক সংকট তাদের নিজেদের দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতার ফল। এর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব কূটনীতিতে নড়বড়ে অবস্থান শক্ত করতেই তুরস্ক ইস্যুতে শক্তি প্রদর্শন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের টার্কি প্রজেক্টের পরিচালক ব্লুয়েন্ত আলিরিজা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন-রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে তুরস্ক। উল্টোদিকে ইসরায়েলের বিরোধিতা করছে। ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামাস, যাদের দু’চোখে দেখতে পারে না ওয়াশিংটন, তাদেরও প্রকাশ্য সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক। ইউরোপের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের অবনতির পরও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশ ছাড়েনি তুরস্ক। সবমিলিয়ে তুরস্ককে হাতের মুঠোয় রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের এ রণমূর্তি।

অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে।

যমুনা অনলাইন: এটি









Leave a reply