কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভয়াবহতার কথা জানিয়ে গুগলের চাকরি ছাড়লেন শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ জেফ্রি হিনটন

|

জেফ্রি হিনটন (৭৫)।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থেকে গুগলের এআই ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ জেফ্রি হিনটন (৭৫)। চাকরি ছেড়ে দিয়ে জানান, এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে নির্দ্বিধায় কথা বলতেই এমন সিদ্ধান্ত তার। খবর বিবিসির।

এর আগে, টেক জায়ান্ট গুগলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পার্ট টাইম চাকরি করছিলেন হিনটন। এ সময় গুগলের হয়ে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উন্নয়নে তিনি রেখেছেন অসামান্য অবদান। তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ টেক ওয়ার্ল্ডে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে। শুধু এআই না, নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজের জন্য ২০১৮ সালে কম্পিউটিংয়ের নোবেল হিসেবে খ্যাত ‘এসিএম এএম ট্যুরিং অ্যাওয়ার্ড’ও পেয়েছেন তিনি। 

কিন্তু, গত সোমবার (১ মে) হিনটন নিজেই জানান যে গুগলের চাকরি ছাড়ছেন তিনি। গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের কাজের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে হিনটন বলেন, আমি নিজেকে এই ভেবে সান্ত্বনা দেই যে, আমি প্রযুক্তিটির উন্নতিতে কাজ না করলেও অন্য কেউ ঠিকই করতো। এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে নির্দ্বিধায় কথা বলতেই চাকরি ছেড়েছি আমি।

এক টুইট বার্তায় হিনটন জানান, শুধু কোম্পানি হিসেবে গুগলের নয়, বরং সর্বোপরি এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে চান তিনি।

গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হিনটন বলেন, এআই এমন একটা বিশ্ব তৈরি করবে যেখানে সত্য-মিথ্যা শনাক্ত করা কঠিন হবে। প্রযুক্তিটির অগ্রগতি সাধারণ মানুষের ধারণার অনেক বাইরে।

এর আগে, ২০২১ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) এর এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে হিনটন বলেছিলেন, এআইয়ের অগ্রগতি খুব দ্রুত পরিবর্তন আনবে সমাজে। আমরা এ পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে এখনও সম্পূর্ণভাবে অবগত নই। আর এ পরিবর্তনের সবটাই যে ইতিবাচক হবে, এমনটি ভাবারও কোনো কারণ নেই।

তবে, এআই প্রযুক্তি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা প্রথম ব্যক্তি অবশ্যই হিনটন নন। বরং এআই চ্যাটবট প্রযুক্তির ভুল তথ্য পরিবেশন ও চাকরির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রযুক্তি ও আইন সংশ্লিষ্ট অনেক বিশেষজ্ঞই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি রিলিজের পর এআই প্রযুক্তি নিয়ে পুরোদমে প্রতিযোগিতায় নামে ওপেনএআই, মাইক্রোসফট, গুগল, আইবিএম, অ্যামাজন, বাইডু ও টেনসেন্ট এর মতো শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। গত মার্চে বাজারে আসে ওপেনএআই চ্যাটজিপিটির নতুন সংস্করণ জিপিটি-৪। চ্যাট জিটিপির নতুন এ সংস্করণ ওয়েবসাইট তৈরি, পরীক্ষা নির্ভুল উত্তর দেয়া ও মামলার খসড়া তৈরির মতো বিশেষ সব কাজে অভাবনীয় দক্ষতার পরিচয় দেয়। জিপিটি-৪ আসার দুই সপ্তাহে মাথায় এক চিঠিতে ‘সমাজ ও মানবতার ঝুঁকির’ কথা চিন্তা করে এআই ল্যাবগুলোকে অন্তত ৬ মাস প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন টেক দুনিয়ার বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তি।

/এসএইচ   


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply