অর্থনৈতিক মন্দার মুখে তুরস্ক

|

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের অবনতির ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়েছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে দেশের স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে তুর্কি মুদ্রা লিরার বিনিময় মূল্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ এই দরপতনের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রয়োজন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নগদ অর্থ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। তবে এতেও আশ্বস্ত হতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা।

সোমবার লিরার প্রায় ৯ শতাংশ দরপতন হয়। ডলারের বিপরীতে লিরার বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় ৭.২৪-এ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণার পর লিরার মূল্যমান সামান্য বেড়ে ৬.৮-এ দাঁড়িয়েছে। অবশ্য এতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। কারণ, বিনিময় মূল্য ৬.৮ হওয়ার পরও ডলারের বিপরীতে লিরার মান অতীতের যে কোনও সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে তারল্য প্রবাহ অব্যাহত রাখতে রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আসে এই ঘোষণা।

আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলো তাদের জমাকৃত আমানত এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে ছাড়তে পারবে। যা আগে ম্যাচিউর হতে প্রয়োজন ছিলো একমাস। বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। এর আগেই অর্থমন্ত্রী বেরাত আল বারাক জানান, বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ কর্ম-পরিকল্পনা প্রকাশের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফেরানো হবে।

গত শুক্রবার ডলারের বিপরীতে লিরার মান কমে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। এরই মাঝে গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন ঘটেছে তুর্কি নিজস্ব মুদ্রার।

দেশের টালমাটাল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তার অভিযোগ, কৌশলে আঙ্কারাকে অস্থিতিশীল করে বাণিজ্যযুদ্ধ করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে, জনগণের কাছ থেকে স্বর্ণ ও ডলার সংগ্রহের ঘোষণা দেন তিনি।









Leave a reply