কোটা সংস্কার চেয়েছি, বাতিলের উদ্যোগ মানি না: হাসান মামুন

|

সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রহসনের’ অভিযোগ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায় হাসান মামুন। তিনি বলেন, আমরা কোটা সংস্কার চেয়েছি, তাই বাতিলের কোনো উদ্যোগ আমরা মানি না।

আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও কোটা পর্যালোচনায় গঠিত সরকারি কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল আলমের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হাসান মামুন গণমাধ্যমকে তার প্রতিক্রিয়া জানান।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে সরকারি চাকরির অন্যান্য কোটা বাদ দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে কোটা পর্যালোচনা কমিটি। তিনি আরও জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হবে।

তিনি বলেন, কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ হলো কোটা অলমোস্ট উঠিয়ে দেওয়া, মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া। তবে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় আছে যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রতিপালন করতে হবে। সংরক্ষণ করতে হবে। যদি পদ খালি থাকে, তবে তা খালি রাখতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, সরকার আদালতের কাছে মতামত চাইবে। যদি আদালত বাতিল করে দেন, তবে কোটা থাকবে না। আর যদি আদালত বলেন, ওই অংশটুকু সংরক্ষণ করতে হবে, তবে সেটি বাদে বাকিটুকু উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এখন আমাদের সময় এসেছে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় যাওয়ার।

‘আদালত বাতিল করে দিলে কোটা থাকবে না’ সরকারের এমন অবস্থানের প্রেক্ষিতে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায় হাসান মামুন যমুনা টিভিকে বলেন, আমরা চাই ৫ দফার আলোকে কোটার একটি যৌক্তি সংস্কার। যে কয় ধরনের মানুষের জন্য বর্তমানে কোটা বরাদ্দ রয়েছে তাদের সবার জন্যই কিছু সংখ্যক আসন থাকুক। তবে সেটা বর্তমান মোট ৫৬ শতাংশের কমিয়ে ১০, ১৫ বা ২০ শতাংশ করা যেতে পারে। আমরা কখনো কোটা পদ্ধতি সম্পূর্ণ বাতিল চাইনি, এখনও চাইনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য বিষয়ে মামুন বলেন, সরকার চাচ্ছে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতিদের জন্য আলাদাভাবে বিশেষ নিয়োগের ব্যবস্থা করতে। যা আমাদেরকে আগেই প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল কিন্তু সেটা আমরা মানিনি। যদি বিশেষভাবে তাদের নিয়োগই দেয়া হয় তাহলে মূল নিয়োগ পরীক্ষা থেকে কোটা বাদ দেয়ার কোনো অর্থই হয় না।

আদালতের বিষয়টি বলে মূলত সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে মামুন বলেন, আদালতের রায় থাকার কথা বলা হচ্ছে। অথচ সেটি রায় নয়, আদালতের পর্যবেক্ষণ। পর্যবেক্ষণ মানা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আমাদের ওপর দমন নিপীড়ন বাড়ানোর জন্যই আদালতের কথা বলে সময় নষ্ট করা হচ্ছে, অভিযোগ সংস্কার আন্দোলনের এই নেতার।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সরকার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এর আগে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী কোটা প্রথা বাতিলের কথা বলেছিলেন।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply