যৌতুক দিতে না পারায় স্ত্রীর গায়ে গরম পানি

|

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
যৌতুকের দাবী পূরণ করতে না পারায় স্ত্রীকে গায়ে গরম পানি দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুখ ও শরীর ঝলসানো অবস্থায় আহত গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। পরে চিকিৎসার খরচ হত দরিদ্র পিতা বহন করতে না পারায় তাকে পিত্রালয়ে আনা হয়েছে। সেখানেই সে মৃত্যু’র সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ জুলাই ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর গ্রামে। বিষয়টি নিয়ে মহেশপুর থানায় ৬ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলা নং- ৩ তাং-০২/০৮/২০১৮। পুলিশ অভিযুক্ত এক জনকে আটক করেছে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সুয়াদী গ্রামে’র মিনাজ উদ্দীন বিশ্বাসের কন্যা রেহেনা খাতুন (৩৫) এর সাথে ১৮ বছর আগে মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর গ্রামে’র সোনা মিয়ার ছেলে মাইক্রো ড্রাইভার আলম হোসেন (৪০) এর পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের দু’টি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় যৌতুকের কোন দাবী দাওয়া না থাকলেও সোনা মিয়া দরিদ্র হলেও মেয়ের সুখের জন্য কয়েক দফায় প্রায় দেড় লাখ টাকার আসবাব পত্র মেয়েকে দেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুক লোভী স্বামী আলম ড্রাইভার যৌতুক চেয়ে স্ত্রী রেহেনার উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। মেয়েকে নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য ১৮ বছরে বিভিন্ন সময়ে জামাই আলমের হাতে নগদ এক লাখ পনের হাজার টাকা তুলে দেন সোনা মিয়া। এর পরও স্বামী ও শাশুড়ি কর্তৃক রেহেনার উপর নির্যাতন থামেনি।

গত ২৭ জুলাই বিকালে সংসারের ঠুনকো বিষয় নিয়ে আলম ড্রাইভার স্ত্রীকে বেদম মারপিঠ করে প্রায় অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চায়ের জন্য চুলায় থাকা গরম পানি এনে স্ত্রী রেহেনার মুখে ও শরীরে ঢেলে দেয়। এ অবস্থায় প্রতিবেশীরা রেহেনাকে উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে রেহেনার ভাই শফিকুল ইসলাম জীবননগর হাসপাতালে ছুটে যান। বোনের করুণ অবস্থা দেখে পরের দিন রেহেনাকে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখানে একদিন থাকার পর ডাক্তারের পরামর্শে তাকে যশোহ’র জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রেহেনার ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, বোনের চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় গত ২ আগষ্ট বাদী হয়ে মামলা করেছি। তিনি বোনের এমন পরিনতির জন্য ভগ্নিপতি আলমের শাস্তি চান।

অভিযুক্ত আলমের পিতা সোনা মিয়া বলেন, এ ঘটনার দুই দিন আগে ছেলে আলম তাকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি মেয়ের বাড়িতে রয়েছেন। এমন ঘটনা শুনে তিনি বৌমাকে দেখার জন্য কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই, ছেলের কাছে আমি খুবই অসহায়।

এ মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশপুর থানার এসআই রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগটি পাওয়ার সাথে সাথে আমলে নিয়ে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। বাকীরা পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।









Leave a reply