বেলারুশে রুশ পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে জাতিসংঘে উত্তেজনা

|

বেলারুশে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে ইউরোপের রাজনীতিতে। শুক্রবার (৩১ মার্চ) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এমন অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মস্কোর আচরণকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে আখ্যা দেন মার্কিন প্রতিনিধি। রাশিয়া ও বেলারুশের নিরাপত্তা নিশ্চিতেই নেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত, দাবি রুশ প্রতিনিধির। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি বলেন, বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, চীন-রাশিয়া আলোচনা ব্যর্থ। খবর এপির।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর প্রথমবারের মতো অন্য কোনো দেশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। যা নিয়ে ব্যাপক শঙ্কা ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।

শুক্রবার এ ইস্যুতে উত্তপ্ত হয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। যুক্তরাষ্ট্র ও আলবেনিয়ার আহ্বানে ডাকা বিশেষ অধিবেশনে বাকবিতণ্ডা হয় ওয়াশিংটন ও মস্কোর প্রতিনিধির মধ্যে। আলোচনায় অংশ নেন বেলারুশ, চীন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরাও। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপ থেকে সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই মিনস্কে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন, সাফাই বেলারুশের।

জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি রবার্ট উড বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদকে তোয়াক্কা না করার বিষয়টি আরেকবার বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের পক্ষে রাশিয়া যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে তা হাস্যকর।

জাতিসংঘে রুশ প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, রুশ ফেডারেশন ও বেলারুশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। জেলেনস্কি প্রশাসন ও তার পশ্চিমা মদদদাতারা এতে ভয় পেয়ে গেছেন। আপনারা কি সত্যিই আশা করেন, উস্কানিমূলক আর আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাবে আমরা চুপ করে থাকবো?

একই দিন ইউক্রেনের বুশা শহর পুনরুদ্ধারের বার্ষিকী পালনে আয়োজন করা হয় বিশেষ সম্মেলন। যোগ দেন, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও মলদোভার নেতারা। সেখানে দেয়া ভাষণে বেলারুশে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের তীব্র সমালোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি। প্রশ্ন তোলেন শি জিনপিং-ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের কার্যকারিতা নিয়ে।

এটিএম/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply