ফরিদপুরে ভুয়া মিলের নামে সরকারি চাল ক্রয়

|

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ভাবে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সমগ্র উপজেলায় কোন চাল উৎপাদনের চালকল না থাকলেও ভুয়া চাল কল দেখিয়ে টনকে টন চাল ক্রয় করেছে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চাল কলের নামে শত শত টন চাল ক্রয় করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ সহ গরীব কৃষকদের ঠকিয়ে আসছে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা। এবছরে সরকারি ভাবে প্রতিকেজি চাউল ৩৮ টাকা দরে মিল মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করে খাদ্য গুদামে মজুত রাখার কথা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারি ভাবে ভাঙ্গা উপজেলায় ৩৭ টন চাল ক্রয়ের অনুমতি পায় খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা এক শ্রেণির লোভী ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে ভুয়া মিল মালিকের নামে ৩৭ টন চাল ক্রয় করে।

মিল মালিক হিসাবে সরকারি খাতায় দেখানো হয় উপজেলার পুলিয়া বাজারে অবস্থিত মোতালেপ চোকদার রাইস মিল। অথচ উক্ত রাইস মিলটি কাগজ কলমে থাকলেও সেখানে ব্যবসা করে আসছে আলম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে একটি দোকান।

অনুমোদিত ৩৭ টন চাউল দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে নিম্নমানের চাউল ক্রয় করে খাদ্য গুদামে মজুত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা প্রবীর কুমার এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানায়, আমি সদ্য যোগদান করেছি ভাঙ্গা খাদ্য গুদামে। ইতোপূর্বে যেভাবে চাল ক্রয় করা হত আমিও একই নিয়মে চাল ক্রয় করেছি মাত্র। তাছাড়া চাল ক্রয়ের ব্যাপারে আমার একার কোন হাত নেই।  কাগজ কলমে মিল মালিক হিসাবে আমরা মোতালেপ চোকদারকেই পেয়েছি এবং তার লাইসেন্সের উপরেই চাল ক্রয় হয়েছে।

লাইসেন্সকৃত রাইস মিলের মালিক মোতালেপ চোকদারকে কাগজ কলমে পাওয়া গেলেও প্রকৃত পক্ষে তাকে সরেজমিনে বা মোবাইলে পাওয়া যায়নি। তবে আলম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক আলম মিয়া জানায়, এই স্থানে গত ৮/৯ বছর আগে একটি রাইস মিল ছিল। কিছুদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর আমি মোতালেপ চোকদারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে গ্রীলের কাজ করছি। তাছাড়া মিলটিতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিছিন্ন করে দেওয়ায় আমি নিজে নতুন সংযোগ এনে কাজ করছি।

এব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাজী মাহাবুর উর রহমান বলেন, আমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

এদিকে বছরের পর বছর ভুয়া রাইস মিল দেখিয়ে শত শত টন চাল ক্রয় করে গরীব কৃষকদের যারা ঠকিয়ে বিশেষ শ্রেণির লোকদের পকেট ভারী করেছেন তাদের সহ এর সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।









Leave a reply